October 13, 2026, 4:21 am
শিরোনামঃ
ওজনে জ্বালানি কম, চাঁদপুরে দুই প্রতিষ্ঠান মালিকের জরিমানা সুনামগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কাজলের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মতলব উত্তরের মেঘনা নদীতে জেলেদের ধাওয়ায় ডুবল নৌ-পুলিশের স্পিডবোট, নিখোঁজ শটগান মতলব উত্তরে দোকানের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি চাঁদপুরে জেলেদের চাল চুরির ঘটনায় ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত কোটচাঁদপুরে ৫০ মণ্ডপে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সুন্দরবনে বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর আস্তানা থেকে চার জেলে উদ্ধার ; কোস্টগার্ডের সফল অভিযান মতলবে নবীজিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন দুবলার চরের শুঁটকি অর্থনীতি ও পর্যটন ; সম্ভাবনার আড়ালে অব্যবস্থাপনা মতলব উত্তরে মুরগির খামারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবক মৃত্যু

কাশফুলের দোলায় পর্যটকদের ভিড় মেঘনা–ধনাগোদার পাড়ে

মমিনুল ইসলাম:

শরৎকাল মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর বুকে দোল খাওয়া কাশবন। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে শরৎ এলেই ছুটে আসে ভ্রমণপ্রেমীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা–ধনাগোদা নদীর বেরিবাঁধ এলাকার কাশবন ঘুরতে আসছেন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রের পাশের খেজুর বাগান ঘিরে থাকা কাশবনে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ পরিবার নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউবা কাশফুল ছুঁয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

মতলব উত্তরের বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন কাশফুলের সমারোহ। মোহনপুর, চরমাছুয়া, বোরচর, চরউমেধ, ষাটনলসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর চরে কাশবন গড়ে উঠেছে। এসব কাশবন শুধু পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে না, বরং স্থানীয় অনেক মানুষ কাশগাছ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এখন শরতের কাশবন মানেই মতলব উত্তর। স্বল্প খরচে পরিবার নিয়ে এক অন্য রকম সৌন্দর্যের রাজ্যে ঘুরে আসার জন্য পর্যটনপ্রেমীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এই মেঘনাপাড়।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, প্রকৃতির এত সুন্দর সাজ সশরীরে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। মনে হচ্ছে স্বপ্নের রাজ্যে এসে পড়েছি। শহরে থেকে আমরা শুধু ধুলো–ধোঁয়া দেখি, কিন্তু এখানে এসে একেবারে অন্য এক জগতে ঢুকে গেলাম। সত্যি বলতে, শরতের কাশফুল আমাদের মনে অন্য রকম প্রশান্তি দেয়।

ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা জামাল হোসেন জানান, কাশগাছ বিক্রি করে আমরা ভালো আয় করি। প্রতি হাজার আঁটি চার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এতে পরিবার চালানো অনেক সহজ হয়।

একেএম তাইজুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক নাউরি আহমাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় বলেন, কাশফুল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাউনি থেকে শুরু করে পশুখাদ্য, এমনকি কাশের মূল দিয়ে নানা রোগের চিকিৎসা করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, যে এলাকায় কাশবন আছে, সেখানে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, মতলব উত্তর প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠুক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা