শরৎকাল মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর বুকে দোল খাওয়া কাশবন। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে শরৎ এলেই ছুটে আসে ভ্রমণপ্রেমীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা–ধনাগোদা নদীর বেরিবাঁধ এলাকার কাশবন ঘুরতে আসছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রের পাশের খেজুর বাগান ঘিরে থাকা কাশবনে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ পরিবার নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউবা কাশফুল ছুঁয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
মতলব উত্তরের বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন কাশফুলের সমারোহ। মোহনপুর, চরমাছুয়া, বোরচর, চরউমেধ, ষাটনলসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর চরে কাশবন গড়ে উঠেছে। এসব কাশবন শুধু পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে না, বরং স্থানীয় অনেক মানুষ কাশগাছ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এখন শরতের কাশবন মানেই মতলব উত্তর। স্বল্প খরচে পরিবার নিয়ে এক অন্য রকম সৌন্দর্যের রাজ্যে ঘুরে আসার জন্য পর্যটনপ্রেমীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এই মেঘনাপাড়।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, প্রকৃতির এত সুন্দর সাজ সশরীরে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। মনে হচ্ছে স্বপ্নের রাজ্যে এসে পড়েছি। শহরে থেকে আমরা শুধু ধুলো–ধোঁয়া দেখি, কিন্তু এখানে এসে একেবারে অন্য এক জগতে ঢুকে গেলাম। সত্যি বলতে, শরতের কাশফুল আমাদের মনে অন্য রকম প্রশান্তি দেয়।
ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা জামাল হোসেন জানান, কাশগাছ বিক্রি করে আমরা ভালো আয় করি। প্রতি হাজার আঁটি চার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এতে পরিবার চালানো অনেক সহজ হয়।
একেএম তাইজুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক নাউরি আহমাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় বলেন, কাশফুল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাউনি থেকে শুরু করে পশুখাদ্য, এমনকি কাশের মূল দিয়ে নানা রোগের চিকিৎসা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, যে এলাকায় কাশবন আছে, সেখানে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, মতলব উত্তর প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠুক।