October 10, 2026, 11:46 pm
শিরোনামঃ
চাঁদপুরে দুই আড়তদারের জরিমানা, ইলিশ ও নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ চাঁদপুরে নিষিদ্ধ চায়না জালসহ ৩ জেলে গ্রেপ্তার মতলব উত্তরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কমিটি গঠন চাঁদপুরে দুর্গাপূজায় ২৩২ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে মেঘনা নদীতে কারেন্ট জাল ও চায়না চাই জব্দ, গ্রেপ্তার ৩ ষাটনলে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা শাহ আলম ভূঁইয়ার, মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার মতলবের ডাকঘরগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে সেবা, জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্ক ফেসবুকে নবীজিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, যুবককে ধরে পুলিশে দিল জনতা চাঁদপুরে বিশ্ব ডাক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালী চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দগ্ধ শিশু পাঁচদিন পরে মৃত্যু, অপর শিশু আশঙ্কাজনক

মতলব উত্তরে মেঘনার পাড়ে গোখাদ্যের হাহাকার ; কচুরিপানা এখন গরুর জন্য ভরসা!

Reporter Name

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতে গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ষাটনল, এখলাসপুর, বাহাদুরপুর, চর বোরচর, চর উমেদ, নাসিরের চর ও চরওয়েষ্টার এলাকার চরাঞ্চলজুড়ে কৃষক ও খামারিরা এখন তাদের গরু-মহিষ নিয়ে নদীর তীরে যাচ্ছেন খাবারের সন্ধানে। এসব পশু এখন বাধ্য হয়ে খাচ্ছে নদীতে ভেসে থাকা কচুরি পানা।

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গো-খাদ্যের ঘাটতি দেশের মাংস ও দুধ উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁরা বলেন, চরাঞ্চলগুলোতে প্রাকৃতিক ঘাস সংরক্ষণ, ঘাস চাষে সহায়তা, এবং খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সাশ্রয়ী খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

ষাটনলের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আগে চরাঞ্চলে প্রচুর ঘাস পাওয়া যেত। এবার বৃষ্টি নেই, ঘাস জন্মায় না। বাজারে খড়-ভুসির দাম এত বেশি যে কিনে খাওয়ানো সম্ভব না। এখন নদীর পাড়ে গিয়ে কচুরি খাওয়াতে হয়।”

চর উমেদের গৃহপালক রহিমা বেগম জানান, “নদীর কচুরি পানা খাওয়ানো ছাড়া গরু বাঁচানোর উপায় নেই। তবে এটা গরুর স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো, বুঝতে পারছি না।”

নাসিরের চর এলাকার পশু খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন নদীর পাড়ে যেতে হয়। এটা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হলেও বিকল্প নেই। সরকার যদি কিছু সহায়তা দিত, তাহলে উপকৃত হতাম।”

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, “নদীর কচুরি পানা গবাদিপশুর জরুরি খাদ্যের বিকল্প হিসেবে খাওয়ানো হলেও এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে না। এটি দীর্ঘমেয়াদে হজমের সমস্যা, পুষ্টিহীনতা এমনকি গরুর রোগও ডেকে আনতে পারে।”

তিনি আরও জানান, “আমরা খামারিদের গাছ ও ঘাস সংরক্ষণ, বিকল্প গো-খাদ্য তৈরি ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। তবে সংকট মোকাবেলায় সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।”

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “আমরা গো-খাদ্যের অভাব সম্পর্কে জানি। স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা তৈরি করে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগকে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা