ইদানিংকালে দেশ থেকে আন্তর্জাতিক,সুশীল থেকে রাজনীতিবিদ,শহর থেকে গ্রাম্য চায়ের দোকান সর্বত্র আলোচিত-সমালোচিত ও চর্চিত একটি বিষয় হচ্ছে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ বিষয়ক। কিন্তু একটা বিষয় আমার ঠিক বোদগম্য হচ্ছে না, এই দুটি বিষয় কি আদ্যো এক নাকি আলাদা, আর তাই বিষয়গুলো নিয়ে একটু চর্চা করার চেষ্টা করলাম।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদিকে নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা হচ্ছে অনিয়ম করে সম্পদ অর্জন আর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এর বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ এর বিষয় অভিযোগসমূহ :
সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে নিজে ও তার পরিবারের নামে বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল,ঢাকায় ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার ও ব্যাংক হিসাবে অর্থসহ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তবে এরই মধ্যে তার বেশকিছু সম্পদের ওপর ‘ক্রোক’ ও ‘ফ্রিজের’ নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। এর ধারবাহিকতায় বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগ করা হয়,বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। তিনি ৩০তম পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেছেন এবং ৩৪ বছর ৭ মাস পর অবসরে গেছেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসরে যান। অবসর গ্রহণের পর দেখা গেছে, বেনজীর আহমেদ তার স্ত্রী ও কন্যাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জন করেছেন, যা তার বৈধ আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অসম।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাব এবং র্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদ অন্যতম এবং তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।
বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিপুল সম্পত্তি অর্জনের বিষয়ে সম্প্রতি দুই পর্বে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের একটি সুনামধন্য দৈনিক পত্রিকা। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনজীরের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ইকো রিসোর্ট। এই রিসোর্টের পাশে আরও ৮০০ বিঘা জমি কিনেছে তার পরিবার। এ ছাড়া পাঁচ তারকা হোটেলের ২ লাখ শেয়ারও রয়েছে তাদের। ঢাকার বসুন্ধরায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটও রয়েছে বেনজীরের পরিবারের। এসব সম্পত্তি অবৈধ টাকায় কেনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সেসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বেনজীর আহমেদ। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তার পরিবারের যে সম্পদ রয়েছে, তা বৈধ এবং এর হিসাব ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ রয়েছে। অবৈধ যেসব সম্পত্তির কথা বলা হচ্ছে, তা কেউ প্রমাণ করতে পারলে ওই ব্যক্তি বা গ্রুপকে সেই সম্পত্তি তিনি বিনা পয়সায় লিখে দেবেন বলেও ভিডিওতে দাবি করেন। যদিও এসবের পর বেনজির আহমেদ দেশের অবস্থান করছেন কিনা তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন ধোয়াশার।
অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা অভিযোগগুলো হচ্ছে :
এখানে আমাদের দেশের কিছু অতিসুশীল এই দুটি বিষয়কে এক তরফাভাবে একই সুতোয় বাধার জোড় তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, যা আমাকে অবাক করেছে। পুলিশ প্রধানের কর্মকাণ্ড তার ব্যক্তিগত অর্জন ছিলো আর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে দেশের জন্য নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করেছে। আর তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার দেশের প্রতি আনুগত্য দেখে বর্তমান ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগকে চাপে রেখে নিজেদের ফায়দা আদায়ের জন্য তার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। যা কিনা আমাদের দেশের কিছু অতিজ্ঞানী পণ্ডিত এক করে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং কিছু বিনদেশি পা’চাটা মিডিয়া রয়েছে যারা জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নানা রকম মুখরোচ গল্প তৈরিতে নেমেছে নিজেদের সততা প্রমাণ করতে। যা বড়ই হাস্যকর।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ এই বিষয় দুটি অবশ্যই ভিন্নধারা কাহিনী! তবে যারা কিনা এক সুতোয় বাধার চেষ্টা করছে তা বড়ই বেদনাদায়ক। সেসব সুশীল বন্ধুদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে,দয়া করে মিডিয়ার সামনে আসা কারো কাজ দেখে মন্তব্য করার আগে নিজের চেহারা ও চারিত্রিক সনদ সংশোধন করুন।
লেখক :
আজম পাটোয়ারী
প্রকাশক, আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।