October 10, 2026, 11:55 pm
শিরোনামঃ
চাঁদপুরে দুই আড়তদারের জরিমানা, ইলিশ ও নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ চাঁদপুরে নিষিদ্ধ চায়না জালসহ ৩ জেলে গ্রেপ্তার মতলব উত্তরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কমিটি গঠন চাঁদপুরে দুর্গাপূজায় ২৩২ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে মেঘনা নদীতে কারেন্ট জাল ও চায়না চাই জব্দ, গ্রেপ্তার ৩ ষাটনলে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা শাহ আলম ভূঁইয়ার, মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার মতলবের ডাকঘরগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে সেবা, জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্ক ফেসবুকে নবীজিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, যুবককে ধরে পুলিশে দিল জনতা চাঁদপুরে বিশ্ব ডাক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালী চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দগ্ধ শিশু পাঁচদিন পরে মৃত্যু, অপর শিশু আশঙ্কাজনক

সোনালুর সুবাসে সেজেছে মতলব উত্তর ; প্রকৃতির রঙে বিমোহিত এলাকাবাসী

মমিনুল ইসলাম:
Oplus_131072

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের প্রতিটি গ্রাম, অলিগলি, রাস্তার ধারে এখন শুধু সোনালুর রঙিন রাজত্ব। গ্রীষ্মের শুরুতেই প্রকৃতিতে নামে হলুদ ফুলের উৎসব-আর সেই উৎসবের নামই যেন অতিপরিচিত সোনালু গাছগুলো।

সোনালি ঝুলন্ত ফুলে এখন ছেয়ে গেছে এখানকার সুজাতপুর, কলাকান্দা, এখলাছপুর, সাদুল্ল্যাপুর, ফরাজীকান্দি ও ছেংগারচরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সোনালু ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। পথচারি থেকে শুরু করে শিক্ষক, কৃষক, ছাত্র-সবার মুখেই এখন সোনালুর কথা।

জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে আসার পথে রাস্তার ধারে সারি সারি সোনালু গাছ দেখি। হলুদ ফুলে ঝুলে থাকা সেই গাছগুলো যেন চোখ ধাঁধানো এক ছবি। ছাত্ররাও এসব গাছ দেখে মুগ্ধ হয়। আমি মনে করি, এই গাছ শুধু পরিবেশ না, শিক্ষার্থীদের মননেও প্রভাব ফেলে।”

দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের কৃষক জসিমউদদীন (৩৮) জানান, “আমি নিজে কয়েক বছর আগে দুটো সোনালু গাছ লাগাইছিলাম বাড়ির পাশে। এখন দেখি সেই গাছগুলা সব দিক থেইকা ফুলে ভরা। অনেকে এসে ছবি তোলে, গাছের নিচে বসে। এই ফুলের সৌন্দর্য তো বর্ণনা করার মতো না।”

ছেংগারচর কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে প্রতিদিন বিকেলে সোনালু গাছের নিচে আড্ডা দিই, ছবি তুলি। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আগে এভাবে চোখে পড়েনি।”

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, “সোনালু একটি পরিবেশবান্ধব ফুলগাছ। এটা শুধু সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, পাখি ও মৌমাছির জন্যও উপকারী। আমরা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সোনালু গাছ রোপণে উৎসাহ দিচ্ছি। এমন উদ্যোগে পরিবেশ যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়বে।”

এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃতির প্রেমীরা এই ফুলকে কেন্দ্র করে একটি বার্ষিক ‘সোনালু উৎসব’ আয়োজন করলে আরো সুন্দর হতো।

সোনালুর এই অপরূপ সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির এক নীরব ভাষা, যা বলে দেয়—প্রকৃতিকে যত ভালোবাসা যায়, সে তত বেশি ফিরিয়ে দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা