September 28, 2026, 7:19 am
শিরোনামঃ
নারীদের মসজিদে সালাত আদায় : কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে মোংলা নদীতে ভালোবাসার ফুল ছিটিয়ে বিশ্ব নদী দিবস পালন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে ডোপ টেস্ট সনদ চালু সময়ের দাবি বাগেরহাটে ক্যাথলিক চার্চে ভাঙচুর, পুকুর থেকে মা মারিয়ার মূর্তি উদ্ধার; যুবক গ্রেপ্তার চাঁদপুরে নদীতে নিখোঁজ যুবকের পরিচয় সনাক্ত, উদ্ধার হয়নি রবিন : স্বামীর সন্ধানে ঘাটে স্ত্রী, লঞ্চসহ আটক ২ বিনয়বাঁশী জলদাসের ১১৫তম জন্মদিবস উপলক্ষে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও দায়িত্ব বণ্টন সভা হাজীগঞ্জে প্রবীণকে মারধর-হেনস্তা: মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ মালয়েশিয়ায় রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের দুই শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন শুধু ভালো ফলাফল নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে উঠতে হবে : বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাড. বোরহান উদ্দিন

বনদস্যু আতঙ্কে লোকালয়ে ফিরছে জেলেরা, উপার্জন বন্ধে পরিবার দিশাহারা

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট :

সুন্দরবনে বনদস্যুদের একের পর এক অপহরণের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোতে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মাছ ধরা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে অনেক জেলে লোকালয়ে ফিরে আসছেন। ফলে হঠাৎ করেই উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে হাজারো জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু জেলে পরিবারই নয়, বন বিভাগও বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাবে এবং উপকূলীয় সাগর ও বননির্ভর জনগোষ্ঠী চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের অপহরণ আতঙ্কে দুবলার চরের হাজারো জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও বনাঞ্চলের নদ-নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে অনেক জেলে চরে অবস্থান করলেও তারা কার্যত কর্মহীন। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেই দুশ্চিন্তায় তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে অন্তত চারটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব দস্যু দল বেপরোয়া হয়ে সাগর ও বনাঞ্চলে তাণ্ডব চালাচ্ছে। জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারলে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন। ফলে জেলেদের মধ্যে চরম ভীতি বিরাজ করছে।

আলোরকোলে অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে বলা হতো ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’। এখন সেই প্রবাদে যুক্ত হয়েছে—‘সাগরে গেলে ডাকাত’। দস্যুদের তৎপরতায় জেলেরা বাধ্য হয়ে মাছ ধরা বন্ধ করেছেন। গত ১৫ দিনের মধ্যে বহু জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, বর্তমানে কমপক্ষে শতাধিক জেলে বিভিন্ন দস্যু দলের কব্জায় আটক থাকতে পারেন। সর্বশেষ সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের সন্ধান তিন দিনেও না মেলায় পরিবারগুলোর মধ্যে উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়েও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কের কারণে অনেক জেলে স্টেশন অফিস থেকে মাছ ধরার পাস (অনুমতি) নিতে আসছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা টহল জোরদার করেছেন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

উপকূলীয় জনপদের সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে শুধু জেলে পরিবারই নয়, সমগ্র উপকূলীয় অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা