তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত না হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে যাচাইহীন তথ্য ও গুজবের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাগেরহাটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাটে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসন, বাগেরহাটের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), বাগেরহাটের সহযোগিতায় সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব। মূল বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনা করেন সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম টুকু।
সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাগুফতা হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মঈনুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন মল্লিক, অ্যাডভোকেট এস এম মাহবুব মোর্শেদ লালন, প্রেসক্লাব প্রতিনিধি ইয়ামিন আলী ও শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ জনস্বার্থে প্রণীত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন। জনগণের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হয় বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘদিন তথ্য কমিশন পুনর্গঠন না হওয়ায় নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকারও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
সভায় গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। তাই অপতথ্য মোকাবিলায় তথ্য যাচাই এবং সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “সর্বসাধারণের তথ্য-উপাত্তে প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যই শক্তি। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ইউপি সেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রকল্পের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের উদ্যোগের কথাও জানান।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।