চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর পুরুষশূন্য বাড়িতে বৃদ্ধা পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রবিবার দুপুর ১২টায় মতলব উত্তর থানায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।
কী ঘটেছিল
নিহত পারুল বেগম মৃত লনু প্রধানের স্ত্রী। তিনি নতুন হাপানিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার মধ্যে যেকোনো সময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবেশী সাহেরা বেগম বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিতে ওই বাড়িতে গেলে বাইরে শিশু মাহাদি হাসান ও মারিয়াকে খেলতে দেখেন। পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুরা জানায়, “দাদু আর মা মারা গেছে।” বিষয়টি শুনে তিনি ঘরে প্রবেশ করে দেখেন পারুল বেগম উপুড় হয়ে পড়ে আছেন এবং অন্য কক্ষে পুত্রবধূ হালিমা আক্তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে।
পুলিশ জানায়, পারুল বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
পুত্রবধূর বক্তব্য ও তদন্ত
উদ্ধার হওয়া হালিমা আক্তার, যিনি স্থানীয় নুরুল ইসলামের স্ত্রী, প্রাথমিকভাবে জানান—এশার নামাজের কিছুক্ষণ পর মুখ বাঁধা অবস্থায় ৩–৪ জন দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে। তারা তাকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ঘরের মালামাল লুট করে। পরে পাশের কক্ষে গিয়ে তার শাশুড়ি পারুল বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
তবে ঘটনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয় এবং তদন্তের অগ্রগতিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও একজন গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, একই গ্রামের মরিচ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের ছেলে মিঠুকেও এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার খবর পেয়ে মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।”
সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হুসনাইন সানীব বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”