যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি, উচ্চ সরকারি ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নীতিনির্ধারণী কমিটির প্রধান সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকের শেষ পর্যায়ে শনিবার এ বক্তব্য আসে। বৈঠকে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা দেশগুলোকে আরও সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং ঋণ পরিশোধের চাপ নিম্ন আয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বৈঠকের সময় রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রায় অর্ধেক প্রতিনিধির কক্ষ ত্যাগ করার ঘটনাও ঘটে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভাজন অর্থনৈতিক আলোচনাতেও প্রভাব ফেলছে। এরপরও কমিটির চেয়ারম্যান জানান, সদস্যরা শেষ পর্যন্ত যৌথ বিবৃতিতে একমত হয়েছেন।
কমিটির বক্তব্যে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা বাড়ানো, দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রবৃদ্ধি সহায়ক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পণ্য উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক শৃঙ্খলা, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।