দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শিল্পকারখানা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৮ নভেম্বর বিজিবি সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্প এলাকাগুলোতে এই মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাতের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে কারখানার নিরাপত্তা, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মালিক-শ্রমিকের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ বা সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট কারখানা নয়, আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্দেশ্য হলো সংঘাতের আশঙ্কা কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাও জরুরি।
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে যদি বেতন, বকেয়া পাওনা কিংবা কর্মপরিবেশসংক্রান্ত অভিযোগ থাকে, তবে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে। সে কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শ্রম অধিদপ্তর, শিল্প পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কতটি কারখানা বা কোন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় কত প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত তথ্যে বিস্তারিত দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী মোতায়েনের পরিমাণ বা দায়িত্বের পরিধি পরিবর্তিত হতে পারে।