চাঁদপুরের মতলব উত্তরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আমন ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। সারসংকটের চাপ, আগাছা ও কোথাও কোথাও পোকার আক্রমণ থাকলেও অধিকাংশ জমিতে ধানের অবস্থা ভালো। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো প্রয়োজনীয় সার-পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩ মেট্রিক টন হিসেবে এবার প্রায় ২৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
উপজেলার দুর্গাপুর, ষাটনল, এখলাছপুর, ফরাজিকান্দি, সুলতানাবাদ, ইসলামাবাদ, জহিরাবাদ, বাগানবাড়ি, সাদুল্ল্যাপুর, কলাকান্দা, গজরা ও ছেংগারচর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সবুজে ভরে উঠেছে আমন ধানের ক্ষেত। কোথাও কৃষক হাতে নিড়ানি নিয়ে আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কোথাও চলছে সার প্রয়োগ ও ধানগাছের পরিচর্যা।
কৃষকরা জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ধানের পাশাপাশি জমিতে আগাছাও বেড়েছে। সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে ধানের গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। ফলে ভালো ফলনের আশায় বাড়তি শ্রম দিয়ে জমি পরিচর্যা করতে হচ্ছে। তবে সার সময়মতো পাওয়া নিয়ে রয়েছে তাদের উদ্বেগ।
কৃষক ইমরান হোসেন, জসিম উদ্দিন ও মাহিন হোসাইন জানান, বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে ধানের অবস্থা ভালো। তবে বৃষ্টির পর আগাছা বেড়ে যাওয়ায় পরিচর্যার খরচ বাড়ছে। কোথাও কোথাও পোকার আক্রমণ ও ধানগাছ হলুদ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তাও রয়েছে। এর পাশাপাশি সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাওয়া গেলে ফলন আরও ভালো হবে বলে আশা তাদের।
তবে সব জমির চিত্র এক নয়। কিছু এলাকায় ধানে পোকার আক্রমণ এবং কোথাও কোথাও ধানগাছ হলুদ হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ সময়ে প্রয়োজনীয় সার না পেলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলনে এর প্রভাব পড়তে পারে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া রোপা আমন আবাদের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূলে ছিল। এ কারণে কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমন আবাদ করতে পেরেছেন। প্রায় ৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমি থেকে ২৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের যেকোনো সমস্যায় পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। বিশেষ করে রোপা আমনের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে আমনের ফলন ঘরে তুলতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করছে।