October 20, 2026, 11:21 pm
শিরোনামঃ
সাংবাদিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সত্যের পক্ষে কলম, মানুষের পাশে সাংবাদিক মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা পরিবারের প্রায় অর্ধেক ঋণগ্রস্ত, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আঠারো বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে প্রায় অর্ধেক মেয়ের: ইউনিসেফ শরীয়তপুরে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে জেলেদের হামলা, আহত দুই চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার চালুর উদ্যোগ হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইয়েমেনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের খবর ঘিরে উদ্বেগ মিয়ানমারের বন্দী নেত্রী অং সান সু চির বিরল ছবি প্রকাশ

সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মঙ্গলবার জানান, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের শহর, বেসামরিক জনগোষ্ঠী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষামূলক আকাশ টহল পরিচালনা করবে। এ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সামরিক পরিবহন ও সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন হলে সেগুলো প্রতিহত করতে সহায়তা করা। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হুথিদের স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা চালানো নয়; বরং সৌদি আরবের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মোতায়েনের পরিধি, যুদ্ধবিমানের সংখ্যা এবং অভিযান পরিচালনার বিস্তারিত সময়সূচি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। হুথি আন্দোলন ও সৌদি নেতৃত্বাধীন পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধের কারণে অতীতে সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের হামলা তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা রিয়াদের পাশাপাশি তার মিত্র দেশগুলোর কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন দিক তুলে ধরছে। সৌদি আরবের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এসব দেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করে। তবে সামরিক সহযোগিতার প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশও জড়িত থাকে। বিশেষ করে ইয়েমেনের সংঘাত যখন নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে, তখন অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতির প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়ানো গেলেও শুধু সামরিক ব্যবস্থা দিয়ে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাতের রাজনৈতিক কারণ, বিভিন্ন পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে। সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিরক্ষামূলক অভিযান হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও ভুল হিসাব, পাল্টা হামলা কিংবা সামরিক স্থাপনার ভুল শনাক্তকরণ উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই অভিযানের লক্ষ্য ও সীমা স্পষ্ট রাখা, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়ানোই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা