ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্তি তৈরি না করে বাংলাদেশি পরিচয়, জাতীয় ঐক্য ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূল চেতনার সঙ্গে নাগরিকদের সমান অধিকার, আইনের সমান আশ্রয় এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রত্যেক নাগরিকের অবদান রাখার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। সামাজিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক সম্পর্ক, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মক্ষেত্রে তাঁদের পারস্পরিক যোগাযোগ দেশের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে। দুর্গাপূজা, ঈদ, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক অংশগ্রহণ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তবে এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে কেবল উৎসবকেন্দ্রিক শুভেচ্ছা যথেষ্ট নয়; দৈনন্দিন জীবনেও নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রয়োজন।
ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ধর্মীয় বিদ্বেষ, গুজব, উসকানিমূলক প্রচার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সেবায় সব নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রত্যয়ের বাস্তব প্রতিফলন নির্ভর করবে এসব নীতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে তার ওপর। দেশের সব মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।