সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরাও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ ৮ নভেম্বর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবহার করে পর্যায়ক্রমে এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা করছে কমিশন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে অল্প বয়স থেকেই নাগরিকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র ভোটার নিবন্ধনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তবে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যক্তির পরিচয় ও বয়সসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হয়।
শিশুদের তথ্য আগেভাগে নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে নাগরিক তথ্য হালনাগাদ ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ের তথ্য এবং পরিবারের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে তথ্যের নির্ভুলতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কোন তথ্য সংগ্রহ করা হবে, কারা তা ব্যবহার করতে পারবেন, তথ্য কত দিন সংরক্ষিত থাকবে এবং ভুল তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। শিশুদের তথ্য যেন অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নিরাপত্তাও প্রয়োজন।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, নির্বাচন কমিশন এবং জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। দেশের সব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্যের মান ও সংরক্ষণব্যবস্থা এক রকম নয়। তাই ধাপে ধাপে যাচাই ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ছাড়া দেশব্যাপী নিবন্ধন চালু করা হলে তথ্যগত অসঙ্গতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। ফলে কবে থেকে নিবন্ধন শুরু হবে, কোন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী ধরনের পরিচয়পত্র পাবেন—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।