October 1, 2026, 7:56 pm
শিরোনামঃ
আল-কোরআন ও হাদিসের আলোকে শহীদ কে? মা ইলিশ রক্ষা : নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জেলেদের বাঁচানোর দায়িত্বও চাঁদপুরে মা ইলিশ ধরলে ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাতিল হবে জেলে কার্ড মতলব উত্তরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত দ্রব্যমূল্য : বাজার নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান কি যথেষ্ট? চাঁদপুরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩৩ আ.লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড পুলিশ পরিচয়ে চালককে ফ্ল্যাটে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী মতলব উত্তরে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে অনুদান ও সনদ বিতরণ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ৬ বছর ধরে নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ; দুটি পদই শূন্য, চোখের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতাল বা খুলনায় ছুটছেন রোগীরা

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ৬ বছর ধরে নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ; দুটি পদই শূন্য, চোখের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতাল বা খুলনায় ছুটছেন রোগীরা

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট :

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রায় ছয় বছর ধরে নেই কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। হাসপাতালটিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞের অনুমোদিত দুটি পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দুটিই শূন্য। ফলে চোখের সমস্যা নিয়ে সরকারি এই হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক কিংবা জেলার বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্নআয়ের রোগীরা।

বাগেরহাটের নয় উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী আসেন। তাঁদের মধ্যে চোখের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, পরামর্শ ও চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকেই অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

কচুয়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা পারমিতা মিত্র বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকলে এখানেই চিকিৎসা নিতে পারতাম। এখন বাইরে যেতে হচ্ছে, খরচও বাড়ছে।’

রোগীর স্বজন সূর্য বলেন, ‘জেলা হাসপাতালেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকা দরকার। তাহলে চোখের সমস্যা নিয়ে রোগীদের বাইরে যেতে হতো না।’

রামপাল থেকে আসা এক রোগী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসার আশায় এসেছিলাম। কিন্তু বিশেষজ্ঞ না থাকায় বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ছে।’

৫৪টি চিকিৎসক পদ শূন্য

শুধু চক্ষু বিভাগ নয়, বাগেরহাট জেলা হাসপাতালজুড়েই রয়েছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৮৬টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২ জন। ফলে ৫৪টি পদই শূন্য।

অন্যদিকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বিভিন্ন সময়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়ছে কাজের চাপ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন আউটসোর্সিং পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী কাজ করছেন। তবে হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ২৮ জন কর্মী প্রয়োজন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা গেলে দৈনন্দিন সেবার চাপ কিছুটা কমবে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণ না হলে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য রোগীদের জেলার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমবে না।

নতুন ভবন হলেও কাটেনি জনবল সংকট

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু হয়। অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়লেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞের দুটি অনুমোদিত পদই শূন্য। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যার হাসপাতালে অনেক সময় ৫০০ থেকে ৫৫০ রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি রয়েছে। অনুমোদিত ৮৬টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২ জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করা হলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা