May 9, 2026, 11:32 am
শিরোনামঃ
আলেমদের নৈতিকতার অবক্ষয় নাকি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংসের পরিকল্পনা? জাটকা রক্ষায় মোহনপুর নৌ পুলিশের কঠোর অভিযান ; ৬০ মামলা, ১৬৬ জেলে গ্রেপ্তার; জব্দ কোটি মিটার কারেন্ট জাল করোনাকালীন সংকটে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব : মানবিকতা, সামরিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক অনন্য অধ্যায়! আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মায়ের আহাজারি ; মতলবে রিপন হত্যার এক মাস পরও অধরা আসামি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ক্যারিয়ার টক প্রোগ্রাম কোন ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধের দায় ইসলাম নেবে কেন? ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধে ধর্মকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক? মুসলমানদের অন্তঃকলহ ও ঐক্যহীনতা : ইসলাম বিদ্বেষী এবং অন্য ধর্মের আক্রমণের প্রধান কারণ! অঙ্গীকারের ১৩তম বর্ণ প্রতিযোগিতা: মতলব উত্তরে ফল প্রকাশ, মেধাতালিকায় ৫০ শিক্ষার্থী অবহেলায় ভাঙা সড়ক, নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারে স্বস্তি ফিরালেন যুবকরা

আলেমদের নৈতিকতার অবক্ষয় নাকি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংসের পরিকল্পনা?

Reporter Name

প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসার শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে নানারকম নেতিবাচক খবর দেখতে পাই। কোথাও বলা হচ্ছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা, কোথাও যৌ.ন হয়রানির অভিযোগ, কোথাও অর্থ আত্মসাৎ, আবার কোথাও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা। এসব খবরের কিছু সত্য, কিছু আংশিক সত্য, আবার কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন অভিযুক্ত ব্যক্তিই চূড়ান্তভাবে অপরাধী। ফলে সমাজের মানুষের মনে এক ধরনের ভয়, সন্দেহ এবং বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে যে ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে, তা অনেকের মনেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে—আসলে কি আলেম সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পরিকল্পিত প্রভাবও কাজ করছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আবেগ নয়, বরং বাস্তবতা, সমাজমনস্তত্ত্ব, মিডিয়ার ভূমিকা, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রভাব, ধর্মীয় শিক্ষার কাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় নীতির দিকে গভীরভাবে তাকাতে হবে। কারণ একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধকে কেন্দ্র করে পুরো একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেমন অন্যায়, তেমনি প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করাও সমাজের জন্য ভয়ংকর।

বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা শত বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্য বহন করে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করেছে, সমাজে নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়েছে। গ্রামবাংলার বহু দরিদ্র পরিবার এখনও তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠায় এই বিশ্বাসে যে সেখানে অন্তত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ পাওয়া যাবে। বহু আলেম সমাজে ইমামতি, শিক্ষা, সামাজিক মীমাংসা, মানবিক সহযোগিতা এবং নৈতিক দিকনির্দেশনার কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে। বাস্তবতা হলো—এই বৃহৎ কাঠামোর মধ্যে কিছু অপরাধী থাকতে পারে, যেমন অন্য যেকোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে এত বড় সামাজিক আতঙ্ক ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে?

আমার কেন জানি মনে হয়, এখানে দুটি বিষয় একসাথে কাজ করছে। একদিকে কিছু ব্যক্তির সত্যিকারের নৈতিক অবক্ষয় রয়েছে, অন্যদিকে এই ঘটনাগুলোকে ব্যবহার করে একটি বৃহত্তর মতাদর্শিক আক্রমণও পরিচালিত হচ্ছে। কারণ আজকের বিশ্বে শুধু সামরিক যুদ্ধ হয় না; সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক যুদ্ধও হয়। একটি জাতির ধর্মীয় ভিত্তি দুর্বল করতে চাইলে প্রথমেই তার শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক কাঠামোকে আঘাত করা হয়। এখানে একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই—দেশের কিছু মাদ্রাসা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিতও হয়েছে। কোনো প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করা ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলাম নিজেই ন্যায়বিচারের ধর্ম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হয়।”—সূরা আন-নিসা : ১৩৫

অর্থাৎ অপরাধ যদি কোনো ধর্মীয় পোশাকধারী ব্যক্তিও করে, তাহলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু একইসাথে এটাও সত্য যে, বিচ্ছিন্ন অপরাধকে ব্যবহার করে পুরো ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে কলুষিত প্রমাণ করার প্রবণতা সমাজে বাড়ছে। মিডিয়ার একটি অংশ এমনভাবে সংবাদ উপস্থাপন করে যেন মনে হয়—মাদ্রাসা মানেই অপরাধের আখড়া। অথচ দেশের সাধারণ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যে অসংখ্য অনৈতিক ঘটনা ঘটে, সেগুলো অনেক সময় একই মাত্রায় আলোচিত হয় না। এখানে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সত্য তুলে ধরা। কিন্তু সত্য তুলে ধরা আর আতঙ্ক তৈরি করা এক বিষয় নয়। বর্তমান সময়ে কিছু মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে “সেন্সেশনালিজম” বা চমক তৈরি করার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ নেতিবাচক সংবাদ বেশি প্রচার পায়, বেশি আলোচিত হয়, বেশি ক্লিক আনে। ফলে কিছু ঘটনা এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে পুরো একটি গোষ্ঠীকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু হয়।

আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য কোনো দ্বিতীয় শক্তি খুব সূক্ষ্মভাবে কাজ করছে। সেই শক্তি সরাসরি সামনে আসে না; বরং বিভিন্ন মতাদর্শিক প্ল্যাটফর্ম, কিছু এনজিও, কিছু তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন এবং অতিমুক্ত চিন্তার প্রচারকদের মাধ্যমে কাজ করে। তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যবহার করে পুরো ধর্মীয় কাঠামোকে “ব্যর্থ”, “অমানবিক” কিংবা “অপ্রয়োজনীয়” প্রমাণ করতে চায়।

বিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকালেও দেখা যায়, বহু জায়গায় ধর্মীয় পরিচয়কে দুর্বল করার জন্য প্রথম আঘাত করা হয় ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার উপর। কারণ মানুষ যদি ধর্মীয় জ্ঞান থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে তার সাংস্কৃতিক ও নৈতিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা নয়; এটি বহু মানুষের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের অংশ। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—পশ্চিমা বিশ্বের কিছু সাংস্কৃতিক প্রভাব। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ধর্মকে প্রায়ই “ব্যক্তিগত বিষয়” হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়। ফলে সমাজে ধর্মীয় প্রভাব কমাতে চাইলে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা একটি কৌশল হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মতো মুসলিমপ্রধান দেশে মাদ্রাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এটিকে দুর্বল করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে ধর্মীয় চর্চাকেও দুর্বল করা সম্ভব—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তবে শুধুমাত্র বাইরের ষড়যন্ত্রের কথা বললে চলবে না। আত্মসমালোচনাও জরুরি। কারণ যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের ভেতরের দুর্বলতা দূর করতে না পারে, তাহলে বাইরের আক্রমণ আরও সহজ হয়ে যায়। দেশের আলেম সমাজেরও এখানে বড় দায়িত্ব রয়েছে। তারা যদি সময়মতো নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেন, তাহলে হয়তো আজ এত বড় সংকট তৈরি হতো না।

বাস্তবতা হলো, কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটি দুর্বল, তদারকি নেই, অভিযোগ তদন্তের স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনো অপরাধ ঘটলে সেটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আর এই ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। কারণ মানুষ তখন মনে করে—ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ রক্ষা করা হচ্ছে। ইসলাম কখনও অপরাধ আড়াল করতে বলেনি। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন—“তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে, তাদের মধ্যে কোনো সম্মানিত ব্যক্তি চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত, আর দুর্বল কেউ চুরি করলে তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত।”—সহীহ বুখারী

অর্থাৎ ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। তাই যদি কোনো আলেম, শিক্ষক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ব্যক্তি অপরাধ করে, তাহলে তাকে বিচারের আওতায় আনতেই হবে। কিন্তু একইসাথে পুরো ইসলাম বা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

আজকের সমাজে একটি বড় সমস্যা হলো—ব্যক্তির অপরাধকে পুরো ধর্মের উপর চাপিয়ে দেওয়া। কোনো অপরাধী যদি ধর্মীয় পোশাক পরে, তখন বলা হয় “ধর্মের সমস্যা”। অথচ কোনো অপরাধী যদি আধুনিক শিক্ষিত হয়, তখন বলা হয় “ব্যক্তিগত বিচ্যুতি”। এই দ্বৈত মানদণ্ড সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

আমার মনে হয়, দেশের বিজ্ঞ আলেম সমাজের এখন নীরব থাকার সময় নয়। তাদের উচিত খোলামেলা আত্মসমালোচনা করা, নৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এবং সমাজের সামনে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে—অপরাধীর কোনো ধর্মীয় মর্যাদা নেই। পাশাপাশি তাদের উচিত মিডিয়ার অতিরঞ্জিত প্রচারণার বিরুদ্ধেও তথ্যভিত্তিক অবস্থান নেওয়া। বর্তমানে কিছু সু-শীল গোষ্ঠী এমনভাবে বক্তব্য দেয় যেন মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি অমানবিক বা অপ্রয়োজনীয়। অথচ বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের লাখো দরিদ্র পরিবারের সন্তান এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা পাচ্ছে। বহু মাদ্রাসা এতিম শিশুদের আশ্রয় দেয়, বিনামূল্যে খাবার ও শিক্ষা দেয়। এই ইতিবাচক দিকগুলো খুব কমই আলোচনায় আসে। এখানে “অতিমুক্ত বাকস্বাধীনতা” বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই স্বাধীনতা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ঘৃণার লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাহলে সেটি আর গঠনমূলক থাকে না। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক প্রচারণা দেখা যায় যেখানে পুরো আলেম সমাজকে ব্যঙ্গ, অপমান বা অবিশ্বাসের চোখে দেখানো হয়। এতে সমাজে বিভক্তি বাড়ে।

একইসাথে এটাও সত্য—আলেম সমাজের একটি অংশ আধুনিক বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা অনেক সময় জনসংযোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে না। ফলে গুজব ও অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি হয়। এখন সময় এসেছে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করার। শুধু ধর্মীয় জ্ঞান নয়, মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা, নৈতিকতা, মানবাধিকার এবং সামাজিক আচরণ নিয়েও মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কারণ একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের দায়িত্বও পালন করেন। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমাজে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে। একদিকে কিছু বাস্তব অপরাধ, অন্যদিকে সেই অপরাধকে ব্যবহার করে মতাদর্শিক আক্রমণ। এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।

আমার মনে হয়, এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সত্যকে আলাদা করা। কোথায় প্রকৃত অপরাধ, কোথায় অতিরঞ্জন, কোথায় রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক উদ্দেশ্য—এসব ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করতে হবে। আবেগ দিয়ে নয়, তথ্য দিয়ে কথা বলতে হবে। মাদ্রাসা যদি সত্যিই ইসলামী নৈতিকতার কেন্দ্র হতে চায়, তাহলে সেখানে নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা থাকতে হবে। একইসাথে সমাজকেও বুঝতে হবে—কিছু ব্যক্তির অপরাধ দিয়ে পুরো ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে বিচার করা অন্যায়।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। একদিকে বাস্তব সংকট, অন্যদিকে মতাদর্শিক আক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে আলেম সমাজ, রাষ্ট্র, মিডিয়া এবং সাধারণ জনগণ—সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ ধর্মীয় শিক্ষা যদি ধ্বংস হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উপর পড়বে না; পুরো সমাজের নৈতিক ভিত্তির উপরও পড়বে। অন্যদিকে অপরাধ যদি আড়াল করা হয়, তাহলে সেটিও ইসলামের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে। তাই প্রয়োজন সত্যনিষ্ঠতা, আত্মসমালোচনা, স্বচ্ছতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ কখনও ঘৃণা, আতঙ্ক বা অপপ্রচারের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না; সেটি দাঁড়িয়ে থাকে ন্যায়, জ্ঞান ও নৈতিকতার উপর।

 

লেখক :

আজম পাটোয়ারী

প্রকাশক

আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা