২০২০ সালে বিশ্ব যখন এক অদৃশ্য শত্রুর সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিল, তখন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই ভয়, অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ডুবে যায়। করোনাভাইরাস নামের ক্ষুদ্র এক জীবাণু পুরো মানবসভ্যতাকে যেন থমকে দিয়েছিল। উন্নত রাষ্ট্র থেকে শুরু করে দরিদ্র দেশ—কারও স্বাস্থ্যব্যবস্থা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি কিংবা অর্থনৈতিক কাঠামো এই মহামারির ধাক্কা পুরোপুরি সামাল দেওয়ার মতো ছিল না। বাংলাদেশও সেই ভয়াবহ বাস্তবতার বাইরে ছিল না। হাসপাতালগুলোতে আতঙ্ক, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, লকডাউন পরিস্থিতিতে খাদ্যসংকট, কর্মহীনতা, স্বাস্থ্যসামগ্রীর অভাব—সব মিলিয়ে দেশ এক কঠিন সংকটময় সময় অতিক্রম করছিল। এই দুর্যোগময় সময়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী যেভাবে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। আর সেই সময় সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ। তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবেই কাজ করেনি; বরং দেশব্যাপী জনসচেতনতা তৈরী, মানবিক সহায়তা প্রদান, সেনাবাহিনী দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহযোগিতা, সকল সিএমএইচ এ করোনার চিকিৎসা সেবা প্রদান, প্রশাসনিক সমন্বয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কোয়ারান্টাইন সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা, জরুরি করোনা চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য অবকাঠামো গঠন এবং সেনা চিকিৎসক দিয়ে তা পরিচালনা করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনাকালীন সময় দেশের বহু মানুষ মনে করেছিল—রাষ্ট্রের অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান যখন পরিস্থিতি বুঝে উঠতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন সেনাবাহিনী ছিল সবচেয়ে সংগঠিত, প্রস্তুত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম।
করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল—রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে কি না। কারণ একটি মহামারি শুধু স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করে না; এটি খাদ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, পরিবহন, চিকিৎসা এবং মানুষের মানসিক স্থিতিশীলতাকেও বিপর্যস্ত করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনে। বেঁচে থাকার আশা জাগায় মানুষের মনে। আর এই পুরো কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল ড. আজিজ আহমেদ, যিনি পরিস্থিতিকে কেবল সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেননি; বরং জাতীয় মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করে তার অধিনস্থ সেনাবাহিনী নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
জেনারেল ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে নামে। তারা লকডাউন কার্যকর, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সেই সময় দেশের বহু মানুষ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। বিশেষ করে যখন মানুষ চারদিকে আতঙ্ক, গুজব ও অব্যবস্থাপনা দেখছিল, তখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ও সুসংগঠিত উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্থিরতা ফিরিয়ে আনে।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্বের একটি বিশেষ দিক ছিল—তিনি সেনাবাহিনীকে কেবল শক্তির প্রতীক নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে মাঠে নামিয়েছিলেন। তাঁর সময়েই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং অসহায় মানুষকে সহায়তা করার মতো কাজগুলো জনগণের কাছে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও মানবিক করে তুলেছিল। বিশেষ করে গ্রামের মানুষদের মধ্যে তখন করোনাভাইরাস নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও আতঙ্ক ছিল। কেউ ভাবত এটি “শহুরে রোগ”, কেউ ভাবত “অভিশাপ”, আবার কেউ চিকিৎসা নিতে ভয় পেত। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী শুধু আইন প্রয়োগ করেনি; বরং মাইকিং, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে উৎসাহিত করেছে। অনেক জায়গায় সেনা সদস্যদের সাধারণ মানুষের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ মানুষের ভয় দূর করতে সহায়তা করেছিল। করোনাকালে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে প্রশংসিত কাজগুলোর একটি ছিল আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার প্রস্তুত করা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্থায়ী চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। যখন অনেক হাসপাতাল রোগী নিতে ভয় পাচ্ছিল, তখন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিশেষ চিকিৎসা ইউনিট তৈরি করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের মানসিক সাহস তৈরি হয় যে রাষ্ট্র এখনো কার্যকর আছে।
সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের সদস্যরা তখন দিন-রাত কাজ করেছেন। অনেক সামরিক চিকিৎসক নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। সেনা সদস্যরা করোনা আক্রান্ত এলাকা জীবাণুমুক্তকরণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন এবং জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তায় অংশ নেন। এসব কাজ নিছক দায়িত্ব ছিল না; বরং এটি ছিল মানবিক কর্তব্যবোধের প্রতিফলন। এই পুরো কার্যক্রমের পেছনে যে কৌশলগত সমন্বয় প্রয়োজন ছিল, সেটি সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের দেশ প্রেম, বলিস্ঠ নেতৃত্ব প্রদান ও প্রশাসনিক দক্ষতারই বহিঃপ্রকাশ। করোনাকালে আরেকটি বড় সংকট ছিল খাদ্য ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা। লকডাউনের কারণে নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। দিনমজুর, রিকশাচালক, ছোট দোকানদার, শ্রমিক—অসংখ্য পরিবার খাদ্যসংকটে পড়ে যায়। এই সময় সেনাবাহিনী বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেয়। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দরিদ্র মানুষের ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিজের হাতে বয়স্ক মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। কোথাও ওষুধ সরবরাহ করছেন, কোথাও অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই মানবিক দৃশ্যগুলো সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর সমন্বয় ক্ষমতা। করোনার মতো সংকটে শুধু সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, চিকিৎসক এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়। সেনাবাহিনী এই সমন্বয়ের একটি কার্যকর অংশ হয়ে উঠেছিল। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সেই সময় সেনাবাহিনী যদি সক্রিয় না হতো, তাহলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারত। করোনাকালে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশফেরত নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাপনায় তারা শৃঙ্খলা ও সংগঠনের পরিচয় দেয়। বিদেশফেরত মানুষের তথ্য সংরক্ষণ, নির্ধারিত স্থানে রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, হাসপাতাল ও জনসমাগমস্থল জীবাণুমুক্ত করার কাজ করা হয়। যদিও পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা এ ধরনের কিছু কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন, তবুও সেই সময় মানুষের মধ্যে মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। মানুষ অন্তত অনুভব করেছিল যে রাষ্ট্র তাদের জন্য কিছু করছে।
করোনাকালে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিজেদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি ছিল। অনেক সেনা সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। তবুও দায়িত্ব থেকে তারা পিছিয়ে যাননি। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর শক্তি এখানেই—তারা সংকটের সময় রাষ্ট্রের প্রয়োজনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখে। জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ প্রায়ই সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দায়িত্ববোধ, ধৈর্য এবং মানবিক আচরণের উপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানান এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মানবিক আচরণ বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্যে শুধু সামরিক কঠোরতা ছিল না; ছিল মানবিক আবেদনও। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও। করোনাকালে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অনেক জরুরি অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারও করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে বেড বৃদ্ধি, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে সামরিক প্রকৌশল ইউনিট কাজ করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর দক্ষতা তখন বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে করোনার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার ঘাটতি, সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। এই বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। করোনাকালে সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর প্রতি নতুনভাবে আস্থা অনুভব করে। কারণ তারা দেখেছে, শুধু যুদ্ধ নয়—মানবিক দুর্যোগেও সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক মানুষ তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্যগুলো মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। তবে বাস্তবতা হলো, এত বড় একটি মহামারি মোকাবিলায় কোনো ব্যবস্থাই শতভাগ সফল ছিল না। বাংলাদেশও বহু সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা, অক্সিজেন সংকট, হাসপাতালের অপ্রতুলতা—এসব সমস্যাও ছিল বাস্তব। কিন্তু সংকটের মুহূর্তে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্বের মূল্যায়ন করতে গেলে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তিনি এমন এক সময়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন, যখন পুরো পৃথিবী অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। সেই সময়ে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীকে মানবিক ও প্রশাসনিক উভয় দায়িত্বে সক্রিয় রাখা সহজ কাজ ছিল না। তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী শুধু একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলার অন্যতম নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। করোনাকাল আমাদের একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে—রাষ্ট্র শুধু রাজনৈতিক কাঠামো নয়; এটি মানুষের পারস্পরিক দায়িত্ববোধেরও নাম। চিকিৎসক, নার্স, প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সেনাবাহিনী—সবাই মিলে একটি জাতিকে সংকট থেকে টেনে তুলতে কাজ করেছে। আর সেই সমন্বিত প্রয়াসের অন্যতম প্রধান নেতৃত্বের জায়গায় ছিলেন জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ।
ইতিহাসের প্রতিটি বড় সংকট কিছু মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের চরিত্র উন্মোচন করে। করোনাকালও তার ব্যতিক্রম নয়। কেউ দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে, কেউ সুযোগ নিয়েছে, আবার কেউ নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সেই কঠিন সময়ে যে ভূমিকা পালন করেছে, তা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, সমালোচনাও থাকতে পারে। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে। সংকটের সময় নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় বাস্তব কাজের মাধ্যমে, আর সেই সময় সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল।
সবশেষে বলা যায়, করোনাকালীন সময় শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, মানবিকতা এবং নেতৃত্বেরও পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আর সেই সময় সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে যখন বাংলাদেশের করোনা মোকাবিলার ইতিহাস লেখা হবে, তখন মানবিক সহায়তা, শৃঙ্খলা, সমন্বয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে তাঁর নাম নিঃসন্দেহে আলোচনায় আসবে।
লেখক :
আজম পাটোয়ারী
প্রকাশক
আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।