October 24, 2026, 8:21 am
শিরোনামঃ
মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় প্রায় পুরো তাইওয়ানে স্থবিরতা, শত শত ফ্লাইট বাতিল সাজেকে অবরোধ ঘিরে গুলিবিনিময়, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় কুমিল্লায় স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গাজীপুরে বাড়িতে আগুনে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ, দুই শিশুসহ হাসপাতালে ভর্তি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রস্তুতিতে কূটনৈতিক দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, টোকিওতে পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ২৭ অক্টোবর তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক জাপানের সঙ্গে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সফরে আসতে পারে ঘোষণা প্রস্তুতি ম্যাচে কালামের ১৩৫, জিসানের ৮৬—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ বিসিবি একাদশের

খবর নেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ; গোমতীর চরে কৃষকদের ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা

বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার একক সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষি অঞ্চলের একটি গোমতীর চর। প্রতিবছর,সারা বছর ব্যাপী কৃষকরা বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে নিজেদেও ভাগ্য বদলের পাশাপাশি স্বনির্ভও দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখছে।

বিগত প্রায় দু’দশক গোমতীর চরাঞ্চল প্লাবিত না হওয়ায় কৃষকরা নিরাপদেই চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করলেও চলতি বছওে অতি বৃষ্টির সাথে পাহাড়ি ঢলে গোমতীর চরাঞ্চলপ্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় হাজার হাজার একরের ফসলী জমি। চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষকরা।

এদিকে পানি কমে গেলে চরের চাষীরা আবারো ঘুওে দাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে,খেয়াল নেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

ভারত থেকে আসা কুমিল্লার প্রধান নদী গোমত জেলার কটকবাজার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে জেলার আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মনপাড়া, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস হয়ে দাউদকান্দিও সাপটা নামক স্থানে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়। প্রতিবছর ওপার থেকে আসা নদীটি বর্ষাকালে বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বিপুল পরিমান পলি বহন করে উর্বর করে গোমতীর চরাঞ্চল। আর সেই উর্বও জমিতে চাষীরা ধান, গম, ভূট্টা, ইক্ষু, পাট, আলু, নানা জাতের শাক-সব্জিসহ শীতকালীন বিভিন্ন তরকারি উৎপন্ন করে আসছে বছরের পর বছর ধরে।

দায়িত্বশীল সুত্র মতে সীমান্তের ওপারে ভারত নদীতে একাধিক বাঁধ দেওয়ায় নদীটি বছরের বেশীরভাগ সময়ই অতিমাত্রায় পানি কম থাকে। এতে বিগত বছরগুলোতে নদী তীরের কৃষকরা নিশ্চিন্ত মনে বারো মাসই বিভিন্ন প্রকারের ফসল উৎপাদন কওে আসছিল।

চলতি বছওে আমাদের দেশ ও ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে গোমতীর দু’কূল ছাপিয়ে যায় পানিতে। এতে চরের পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে গেলে সর্বস্বান্ত হয় কৃষক। পরবর্তীতে চরের পানি নেমে গেলে আবারো ভাগ্য ফেরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে নদী তীরের কৃষকরা। এসময় কৃষকরা আগাম ও দ্রুত ফলনশীল সব্জি উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ে। রোপন কওে লালশাত, ডাটা শাক,পুঁই শাক, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসব্জি।

সরেজমিন গোমতীর কুমিল্লা সদরের আমতলী, নিশ্চিন্তপুর, কাইচ্চাতলী বুড়িচংয়ের সমেষপুর, বাগিলারা, বাজেবাহেরচর, ভান্তি,পূর্বহুরা, বালিখাড়া, কামাড়খাড়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় কৃষকদেও ঘুওে দাড়াবার  দৃশ্য।

নদীর দু’কূল ছাপিয়ে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা যখন নতুন কওে আবারো ভাগ্য ফেরাতে ব্যস্ত,তখন চরাঞ্চলের উল্লেখিতস্থানগুলোর কৃষকদেও ভরসা নিজেরাই। আমতলী,নিশ্চিন্তপুর, এলাকার চওে চাষাবাদে ব্যস্ত নান্টু নামের এক কৃষক জানান, সরকারী পর্যায়ে কেউই কোন খবর রাখেনি বা নিতে আসেনি। বন্যা পরবর্তীতে মাঠ চাষাবাদের উপযোগী করে গত প্রায় ১৫দিন আগে তিনি চরের প্রায় ১০ একরেরও বেশী জায়গা জুড়ে মুলা চাষ করেছেন। কিছু অংশে করেছেন লাল শাক ও ডাটা শাক।

এরই মাঝে তার আবাদ করা মুলা ও লাল শাক বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে কৃষকরা জানান, জমি তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে, কয়েক দিনের মধ্যেই আলু রোপন করবো।

তারা আরোও বলেন, আমতলী,নিশ্চিন্তপুর, এলাকায় তিনিসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য জাহাঙ্গীর,শাহআলম,রুবেল,হালিম,আব্দুল,বগু এ মৌসুমে  প্রায় ২০ একরের বেশী জমিতে সব্জিসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করছেন। একই দৃশ্য উল্লেখিত বুড়িচং অংশের চরের।

এ মূহুর্তে কৃষকরা ব্যস্ত লাল শাক,ডাটা শাক,মুলা চাষে। কৃষক মালু মিয়া বলেন, শাক,মুলা দ্রুত বর্ধনশীল তথা অল্প সময়ে বিক্রিরউপযোগী হয়ে উঠায় বন্যা পরবর্তী চাষীরা প্রাথমিক লাভের আশায় চরের বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে এসব তরকারীর চাষ করেছেন।

জানা যায়, বন্যা পরবর্তী স্বল্প সময়ে অনেকেই বাজাওে তরকারীর উচ্চ মুল্য দেখে অধিক লাভবান হতে এরই মাঝে ছোট আকারের মুল,লাল শাক,ডাটা শাক বাজারে বিক্রি করা শুরু করেছেন। এতে লাভ ও হচ্ছে ভালো। তবে, একাধিক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, সরকার কৃষকদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগীতা করলেও আমাদের আমতলী, নিশ্চিন্তপুর, কাইচ্চাতলী এলাকার চরাঞ্চলের কয়েক শত একর জমি চাষাবাদ করা কৃষকদের জন্য কখনো কোন সরকারী প্রনোদনা বা সাহায্য পাইনি।

বন্যা পরবর্তী গোমতীর চরের কৃষকদের অবস্থা  জানতে চাইলে, কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আইউব মাহমুদ জানান, গত আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি বন্যায় গোমতীর চরের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হলেও এখানকার পরিশ্রমি কৃষকরা বন্যা পরবর্তী দ্রুততম সময়ে চরে শাক-সব্জির আবাদ শুরু করে ঘুরে দাড়াবার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরো বলেন, গোমতীর চরের সব্জি কুমিল্লার মানুষের চাহিদার বিরাট একটা অংশ পুরন করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা