গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি বাড়িতে আগুন লেগে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
আজ শুক্রবার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন ৩০ বছর বয়সী মো. মলছিন প্রধান, তাঁর স্ত্রী ২৫ বছর বয়সী সেলিনা আক্তার এবং তাঁদের দুই সন্তান—চার বছর বয়সী সোহাদ ও পাঁচ বছর বয়সী শায়ান। পরিবারের সদস্যরা ভোরের দিকে ঘরের একটি সোফায় আগুন দেখতে পান। পরে আগুন কাঠের ছাদ ও বারান্দায় রাখা দুটি মোটরসাইকেলে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন বাড়ির অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যায়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসকের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেলিনার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ, শায়ানের ১২ শতাংশ, সোহাদের ২ শতাংশ এবং মলছিনের ১ শতাংশ পুড়ে গেছে। মা ও বড় সন্তানকে ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে; বাবা ও ছোট সন্তানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোফায় আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পড়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, দাহ্য বস্তু বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
বাড়িতে আগুন লাগলে দ্রুত সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হলে তা করা এবং জরুরি সেবায় যোগাযোগ করা জরুরি। আগুনের কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।