চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার আবুল হাসেমের সর্বোচ্চ শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন উলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় জনতা। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সদস্য সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বেরি বাঁধের উপর অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে তিন শতাধিক উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বদরপুর আদমিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমান। বক্তব্য দেন ওই মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক শরিফুল ইসলাম, এসিএল মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. সালাউদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন সরকার, সদস্য ফয়েজ মেম্বার, উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি হোসাইন আহম্মেদ রাজি, মাওলানা বাইজিদ রেজা, মাওলানা তাফসির আহম্মেদ, আউলিয়াবাগ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার হোসাইন আহমেদ, হাফেজ তৌফিক রেজা, হাফেজ জহিরুল ইসলাম ও কালীপুর মাদ্রাসার সুপার হাফেজ আমির হামজাসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালীপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা হামিদী। বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর উপজেলার ৩ নম্বর সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর উত্তরপাড়া বেপারী বাড়ি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় আবুল হাসেম (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জামালপুর গ্রামের আল আমিন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় মামলা করেন। ১০ অক্টোবর মামলাটি ২১ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পুলিশ জানায়, পেনাল কোডের ২৯৬ ও ২৯৮ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৬(১) ধারায় মামলা রুজু করে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।