September 12, 2026, 3:03 am
শিরোনামঃ
জাতিসংঘের ঘোষিত ছয় অগ্রাধিকার ও বিশ্ব বাস্তবতা মতলব উত্তরে মেঘনায় আবারও অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ ও ইকোনমিক জোন সুন্দরবনে বনরক্ষীদের অভিযানে হরিণ শিকারের বিশাল ফাঁদ ও ট্রলার জব্দ সুন্দরবনের আতঙ্ক ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ, জমা পড়ল বিপুল অস্ত্র সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মতলব উত্তরের প্রবাসী নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম শিকদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হরিনা কবরস্থানে দাফন বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবার পেল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বাগেরহাটে জলাতঙ্কের ঝুঁকি রোধে বেওয়ারিশ ও গৃহপালিত কুকুরকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু মোংলা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত: উপকূলীয় যাতায়াত ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত বাগেরহাটে প্রসূতির জরায়ু-মূত্রথলি কাটার অভিযোগে মানববন্ধন

মতলব উত্তরে মেঘনায় আবারও অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ ও ইকোনমিক জোন

মমিনুল ইসলাম, মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে আবারও ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের আঁধারেই বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। সন্ধ্যার পর নদীতে নামানো হয় ড্রেজার, চলে রাতভর বালু উত্তোলন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না থাকায় বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মেঘনা নদী থেকে নিয়মিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) এলাকাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড় নাছিরাকান্দি, বোরচর, চরওয়েস্টার’সহ মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নদীতে ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু তোলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে গত ৩১ আগস্ট উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় নাছিরাকান্দি, বোরচর ও চরওয়েস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সভায় দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি।

বোরচর গ্রামের একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, রাতভর ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, মেঘনা নদীর বুকে থাকা সাতটি চর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন বাড়ছে। এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তার অভিযোগ, বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে প্রতিনিয়ত নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে প্রকল্পের ভেতরে বসবাসরত মানুষের পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন যোগদান করেছি। নদীতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মতলব উত্তরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা