October 25, 2026, 8:11 am
শিরোনামঃ
ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় প্রায় পুরো তাইওয়ানে স্থবিরতা, শত শত ফ্লাইট বাতিল সাজেকে অবরোধ ঘিরে গুলিবিনিময়, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবার পেল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ

‎বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসন।

‎গত বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মোট ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী স্বজনদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মেজবা উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী, বিআরটিএর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ারিং এস এম মাহফুজুর রহমান এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু।

মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজনহারা পরিবারগুলোকে কিছুটা আর্থিক সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাগুলোতে যারা নিজেদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়েছেন কিংবা মারাত্মক জখমের শিকার হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে এই অনুদান প্রদান করা হয়।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের এই কার্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ২৭টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। যার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫ জন নিহতের প্রত্যেকের পরিবারকে বিআরটিএর তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা অপর দুজনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য মোট ৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আকস্মিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছিল। এই আর্থিক সহায়তা তাদের জীবনসংগ্রামে সাময়িক স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে এককালীন এই অর্থের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী আয়ের উৎস সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

‎অনুষ্ঠানে বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সরকারের এই সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে, এ ধরনের অনুদান কেবল আর্থিক ক্ষতি পূরণ করতে না পারলেও স্বজন হারানো পরিবারগুলোর আকস্মিক ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিআরটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ এই পদক্ষেপে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এই চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণ বিতরণই নয়, বরং সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা প্রতিকারের মাধ্যমে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর নজরদারি এবং চালক ও যাত্রীদের মাঝে ট্রাফিক আইনের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

‎সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র অনুদান বা ক্ষতিপূরণ বিতরণ কোনোভাবেই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প হতে পারে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা বন্ধ না হলে এই ধরনের আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়িয়েও হতাহতের মিছিল থামানো সম্ভব হবে না। তাই বাগেরহাটের এই উদ্যোগের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতের সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে নীতিনর্ধারক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনো পরিবারকে আর কখনোই সড়ক দুর্ঘটনার মতো অনভিপ্রেত দাম পরিশোধ করতে না হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা