যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিটটি সচল করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কর্মকর্তারা ত্রুটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজ সম্পন্ন করেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উৎপাদন শুরুর পর প্রাথমিক পর্যায়ে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটে উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে। এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটই বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট।
দ্বিতীয় ইউনিটটি দীর্ঘ আট দিন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে গিয়েছিল। মেরামত শেষে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে না হয়, সে জন্য রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।