চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ব্যতিক্রমী এক পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছেন সমাজসেবক গোলাম কিবরিয়া স্বপন দেওয়ানজী উপজেলার দক্ষিণ টরকী বকুলতলা থেকে নন্দলালপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয়েছে ১১ শত তালের বীজ।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাঁর একান্ত উদ্যোগে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক তালের বীজ রোপণের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সময়ের সঙ্গে এসব বীজ থেকে তালগাছ বেড়ে উঠলে সড়কটির সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি এলাকার পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্যোগ প্রসঙ্গে গোলাম কিবরিয়া স্বপন দেওয়ানজী বলেন, “গাছ লাগানো শুধু একটি দিনের কাজ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সম্পদ তৈরি করার উদ্যোগ। দক্ষিণ টরকী বকুলতলা থেকে নন্দলালপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে তালের বীজ রোপণের চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “১১ শত তালের বীজ রোপণ করা হয়েছে। আজ হয়তো এগুলো ছোট বীজ, কিন্তু কয়েক বছর পর যখন এগুলো বড় গাছে পরিণত হবে, তখন এই সড়কের চেহারা অনেকটাই বদলে যাবে। পথের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ মানুষের চোখে যেমন প্রশান্তি দেবে, তেমনি পরিবেশের জন্যও তা হবে উপকারী।”
স্বপন দেওয়ানজী আরও বলেন, “আমরা অনেক সময় উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা, ভবন বা অবকাঠামোকে বুঝি। কিন্তু একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বীজ রোপণ করা হয়েছে, এখন এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। স্থানীয় মানুষ যদি একটু যত্ন নেন এবং গাছগুলো নষ্ট না করেন, তাহলে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি সুন্দর সবুজ সড়কে রূপ নিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, একজন মানুষ একটি গাছ লাগালে তার সুফল শুধু সে নিজে পায় না—তার পরিবার, সমাজ এবং পরবর্তী প্রজন্মও পায়। তাই সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে রোপণ করা তালের বীজগুলো একসময় পরিণত তালগাছে রূপ নেবে। আর সেই সঙ্গে দক্ষিণ টরকী বকুলতলা থেকে নন্দলালপুর পর্যন্ত সড়কটি হয়ে উঠবে আরও সবুজ, মনোরম ও পরিবেশবান্ধব।
এই সময় তার সাথে বীজ বপন করেন, মোঃ আজহারুল ইসরাম লিটন সহ স্থানীয় অন্যারা।