পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিগত সময়ে সংঘটিত কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কাছে তুলে ধরেছে নাগরিক সংগঠন দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি।
আজ বৃহস্পতিবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার অঙ্গীকার করেন। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটিসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সভায় দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিগত দিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
উপস্থাপিত অভিযোগের মধ্যে ছিল—হাওরে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কাজ না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, বগুড়ায় শত শত কোটি টাকার কথিত দুর্নীতি, বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ১১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নাজমুল আহসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
এ ছাড়া বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি তহবিলের ২৬ শতাংশ অর্থ অপচয়ের অভিযোগও সভায় লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এসব অভিযোগের পাশাপাশি দেশের খরা ও বন্যাকবলিত এলাকায় পানি সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও সহজ সমাধান নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শও তুলে ধরেন সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি নির্মূলের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, শিক্ষাবিদ কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, জমিরুল আকতার, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর নুরুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হক তালুকদার, মওলানা ভাসানীর পুত্রবধূ পারভীন নাসের খান ভাসানী, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম কানু এবং নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী লুৎফর রহমান।
সভায় বক্তারা পানিসম্পদ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও জনবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।