August 28, 2026, 5:56 am
শিরোনামঃ
জ্বালানি সংকটেও জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি দিচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র মোংলা বন্দরে বড় ধরনের রাজস্ব জালিয়াতি শনাক্ত : যন্ত্রাংশের আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ির চালান বাগেরহাটে ভরা মৌসুমেও চড়া দামে ইলিশ বাগেরহাটে মাদক, ছুরি ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ১১ মতলব উত্তরে মাদকবিরোধী র‌্যালি-সমাবেশ ; মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে হবে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : একজন সেনাপ্রধানের কর্মযাত্রার মূল্যায়ন মতলব উত্তরের গজরা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ পরিষদের আত্মপ্রকাশ সুন্দরবনে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তাণ্ডব ; ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহৃত জেনারেল ড. আজিজ আহমেদ : বিজিবির আস্থা পুনর্নির্মাণের চার বছরের অভিযাত্রা মতলব উত্তরের গজরা ইউনিয়নে সাবিনা ইয়াছমিনের ছয় দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ

জ্বালানি সংকটেও জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি দিচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি :

দেশের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি সংকট ও চাহিদার চাপের মধ্যেও জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির ধারাবাহিক উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি লোডশেডিং পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৫ দিনে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার কেন্দ্রটি এ সময়ে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে কেন্দ্রটি প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ওই মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা যখন ক্রমেই বাড়ছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নানা ধরনের চাপ রয়েছে, তখন বড় ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধারাবাহিক উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রামপাল কেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা বজায় থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

পরিবেশগত মান বজায় রেখে উৎপাদনের দাবি

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক খাঁন নোমান শিবলী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দীর্ঘ সময় পূর্ণ বা উচ্চ সক্ষমতায় পরিচালনার ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি দক্ষতা এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ধারাবাহিক রাখা সম্ভব হবে।

দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতায় পরিচালিত হচ্ছে কেন্দ্র

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানান, বর্তমানে কেন্দ্রটির অপারেশনাল কার্যক্রমে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুরুতে ভারতীয় প্রকৌশলীদের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ নেওয়া হলেও এখন দেশীয় প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে কেন্দ্রটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতীয় প্রকৌশলীরা বর্তমানে মূলত পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রেখে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণই বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, রামপাল কেন্দ্রের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ধারাবাহিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি, জ্বালানি সংকট কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন কমে গিয়ে জাতীয় গ্রিডে তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর নজরদারি অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

সংকটের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান

বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদার প্রেক্ষাপটে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধারাবাহিক উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির উৎপাদন অব্যাহত থাকলে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তা সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু একটি বা কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা গেলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় এটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জ্বালানি সংকটের মধ্যেও জাতীয় গ্রিডে কেন্দ্রটির এই ধারাবাহিক অবদান বিদ্যুৎ খাতে স্বস্তির পাশাপাশি দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা