July 7, 2026, 7:15 pm
শিরোনামঃ
কৃষিজমিতে ড্রেজারের থাবা, প্রশাসনের অভিযানে থামল ভরাট মতলব পৌরসভার ৬৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা তৃণমূল পর্যায়ে জনসেবা আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনবান্ধব করার নির্দেশনা : জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল ; উপকূলীয় বাগেরহাটে চরম সংকটে মৎস্য খাত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম- বেসড টিচিং ; লার্নিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চার বছরের শিশু ধ.র্ষণ চেষ্টায় যুবক আটক সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র : সুশিক্ষা, নীতি, আদর্শ, দায়িত্বশীলতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড: বিশেষ নজরদারি ও আইনি অভিযানের ঘোষণা মতলব উত্তরে মুরগির খামারে ঝোপ থেকে ২ দেশীয় শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার মোংলা বন্দরে ১৫৩৮ কোটি টাকার ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প ; নাব্যতা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র : সুশিক্ষা, নীতি, আদর্শ, দায়িত্বশীলতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ

Reporter Name

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা, একটি নৈতিক অঙ্গীকার এবং সত্য অনুসন্ধানের অবিরাম যাত্রা। রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের বাইরে থেকেও সাংবাদিকতাকে প্রায়ই রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ” বলা হয়। কারণ একটি গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকদের কাঁধেই বর্তায়। কিন্তু এই মহান দায়িত্ব পালন করতে হলে শুধু একটি পরিচয়পত্র, একটি ক্যামেরা বা একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুশিক্ষা, নীতি, আদর্শ, দায়িত্বশীলতা এবং কৃতজ্ঞতাবোধের মতো মৌলিক মানবিক গুণাবলি।

আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সংবাদ পরিবেশনের গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। একটি ঘটনা ঘটার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। এই দ্রুততার যুগে সাংবাদিকতার গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বও। কারণ একটি ভুল সংবাদ, একটি বিভ্রান্তিকর শিরোনাম বা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সমাজে বিভ্রান্তি, সহিংসতা, সামাজিক অস্থিরতা এমনকি রাষ্ট্রীয় সংকটও সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার মূল শক্তি প্রযুক্তি নয়; বরং সততা, জ্ঞান এবং নৈতিকতা।

সাংবাদিকতার প্রথম ভিত্তি সুশিক্ষা। এখানে সুশিক্ষা বলতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বোঝানো হচ্ছে না। একজন প্রকৃত সাংবাদিকের ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, আইন, সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃতি, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। কারণ তিনি প্রতিদিন এমন বিষয় নিয়ে কাজ করেন, যা মানুষের চিন্তা, মতামত এবং সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

যিনি নিজে জানেন না, তিনি অন্যকে সঠিক তথ্য জানাবেন কীভাবে? একজন সাংবাদিক যদি কোনো আইনের মৌলিক বিষয় না জানেন, তবে আদালতের সংবাদ ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। অর্থনীতির ধারণা না থাকলে বাজেট বিশ্লেষণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। ইতিহাস না জানলে অতীত ও বর্তমানের তুলনামূলক মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই সাংবাদিকের শিক্ষা আজীবনের শিক্ষা। তিনি প্রতিদিন পড়বেন, শিখবেন, প্রশ্ন করবেন এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করবেন।

সুশিক্ষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষকে বিনয়ী করে। প্রকৃত শিক্ষিত সাংবাদিক কখনো মনে করেন না যে তিনি সব জানেন। বরং তিনি জানেন, প্রতিটি নতুন ঘটনা তাঁকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ দেয়। তিনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেন, গবেষণা পড়েন এবং তথ্য যাচাই করেন। এই অভ্যাসই তাঁকে একজন নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকে পরিণত করে।

সাংবাদিকতার দ্বিতীয় ভিত্তি নীতি। নীতি ছাড়া সাংবাদিকতা একসময় প্রচারণায় পরিণত হয়। সাংবাদিকের নীতি হলো সত্য যাচাই করা, উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, গুজব প্রচার না করা, ব্যক্তিগত স্বার্থে সংবাদ ব্যবহার না করা এবং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই যাচাই না করেই সংবাদ প্রচার করেন। পরে দেখা যায়, সেই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বা বিকৃত। কিন্তু একজন নীতিবান সাংবাদিক জানেন, সংবাদ প্রকাশে কয়েক মিনিট দেরি হওয়া ক্ষতিকর নয়; বরং ভুল সংবাদ প্রকাশ করা অনেক বেশি ক্ষতিকর।

সংবাদ সংগ্রহের সময়ও নীতির প্রয়োজন। গোপন ক্যামেরা, প্রতারণা, ভয়ভীতি বা অর্থের বিনিময়ে তথ্য সংগ্রহ সবসময় নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাংবাদিককে প্রতিটি পদক্ষেপে বিবেকের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কারণ তাঁর কলম বা ক্যামেরা কারও সম্মান রক্ষা করতে পারে, আবার অন্যায়ভাবে একজন নির্দোষ মানুষের জীবনও ধ্বংস করে দিতে পারে।

সাংবাদিকতার তৃতীয় স্তম্ভ আদর্শ। আদর্শহীন সাংবাদিকতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একজন সাংবাদিকের রাজনৈতিক মত থাকতে পারে, ব্যক্তিগত বিশ্বাস থাকতে পারে, কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ হবে সত্য, ন্যায় এবং জনস্বার্থ।

আদর্শবান সাংবাদিক ক্ষমতাসীনদের অন্যায় যেমন প্রকাশ করেন, তেমনি বিরোধী পক্ষের অসত্য দাবিও যাচাই করেন। তিনি ব্যক্তি নয়, নীতিকে অনুসরণ করেন। তিনি কোনো গোষ্ঠীর মুখপাত্র নন; তিনি জনগণের তথ্য জানার অধিকারের প্রতিনিধি। ইতিহাসে যাঁরা সাংবাদিকতার জন্য স্মরণীয় হয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক শক্তির কারণে নন; তাঁরা তাঁদের নৈতিক অবস্থান এবং আদর্শের জন্য স্মরণীয় হয়েছেন। তাঁরা জানতেন, ক্ষমতা পরিবর্তন হয়, সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু সত্যের মূল্য কখনো কমে না।

চতুর্থ ভিত্তি দায়িত্বশীলতা। সংবাদ প্রকাশের আগে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক নিজেকে প্রশ্ন করেন—এই সংবাদ কি সত্য? এটি কি জনস্বার্থে? এটি কি কারও অযথা ক্ষতি করবে? তথ্যের উৎস কি নির্ভরযোগ্য? একটি ভুল ছবি, একটি বিভ্রান্তিকর শিরোনাম কিংবা একটি সম্পাদিত ভিডিও অনেক সময় মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়। দায়িত্বশীল সাংবাদিক কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন না। তিনি জানেন, সংবাদ বিক্রি করার জন্য মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা সাংবাদিকতার কাজ নয়।

দায়িত্বশীল সাংবাদিক দুর্যোগের সময় আতঙ্ক ছড়ান না; বরং মানুষকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। নির্বাচনের সময় গুজব নয়, যাচাইকৃত তথ্য তুলে ধরেন। ধর্মীয় বিষয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা সত্যনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় উসকানি সৃষ্টি না করে। বিচারাধীন বিষয়ে এমনভাবে প্রতিবেদন করেন, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

দায়িত্বশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভুল হলে তা স্বীকার করা। ভুল মানুষের হতেই পারে। কিন্তু ভুল বুঝতে পারার পর তা সংশোধন করার সততা সাংবাদিকতার অন্যতম বড় গুণ।

সাংবাদিকতার পঞ্চম এবং প্রায়ই উপেক্ষিত একটি মূল্যবোধ হলো কৃতজ্ঞতাবোধ। একজন সাংবাদিক তাঁর পেশাগত জীবনে অসংখ্য মানুষের সহযোগিতা পান—সহকর্মী, সম্পাদক, শিক্ষক, তথ্যদাতা, পাঠক, দর্শক, আলোকচিত্রী, ক্যামেরাপার্সন, প্রযুক্তিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। তাঁদের অবদান ভুলে গেলে সাংবাদিকতার মানবিক দিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কৃতজ্ঞ সাংবাদিক কখনো অহংকারী হন না। তিনি জানেন, তাঁর প্রতিটি সফল প্রতিবেদনের পেছনে একটি দল কাজ করে। তিনি প্রবীণদের সম্মান করেন, নবীনদের উৎসাহ দেন এবং সহকর্মীদের অবদান স্বীকার করেন। কৃতজ্ঞতাবোধ শুধু মানুষের প্রতিই নয়; সত্যের প্রতিও। একজন সাংবাদিক সত্যের কাছে ঋণী। তাই তিনি কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে সত্যকে বিকৃত করেন না।

আজকের দিনে সাংবাদিকতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ভুয়া তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। তাঁকে শুধু সংবাদ পরিবেশন করলেই হবে না; সত্য যাচাইও করতে হবে।

একজন সাংবাদিকের ভাষা হওয়া উচিত শালীন, সংযত এবং তথ্যভিত্তিক। সংবাদে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, বিদ্রূপ, অপমান বা ঘৃণার ভাষা থাকা উচিত নয়। মতামত এবং সংবাদ—এই দুইয়ের পার্থক্য পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।

সাংবাদিকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবিকতা। দুর্ঘটনা, হত্যাকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির সংবাদ সংগ্রহের সময় ভুক্তভোগীদের মর্যাদা রক্ষা করা সাংবাদিকের দায়িত্ব। শুধু দর্শক বাড়ানোর জন্য মানুষের ব্যক্তিগত কষ্টকে প্রদর্শনীতে পরিণত করা নৈতিক সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাংবাদিককে সাহসী হতে হবে, কিন্তু বেপরোয়া হওয়া চলবে না। তাঁকে নিরপেক্ষ হতে হবে, কিন্তু অন্যায়ের প্রতি নির্লিপ্ত হওয়া যাবে না। তাঁকে স্বাধীন হতে হবে, কিন্তু দায়িত্বহীন হওয়া যাবে না। একজন ভালো সাংবাদিক কখনো নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন না। তিনি সংবিধান, আইন এবং পেশাগত নীতিমালা মেনে কাজ করেন। তিনি জানেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঠিক ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতার ধরন বদলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, ডেটা জার্নালিজম, মোবাইল সাংবাদিকতা—এসব নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু প্রযুক্তি কখনো নৈতিকতার বিকল্প হতে পারে না। আধুনিক যন্ত্র একজন সাংবাদিককে দ্রুততর করতে পারে, কিন্তু সৎ করতে পারে না। সততা আসে চরিত্র থেকে।

সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে প্রতিদিন নতুন পরীক্ষা দিতে হয়। কখনো রাজনৈতিক চাপ, কখনো আর্থিক প্রলোভন, কখনো সামাজিক চাপ, কখনো ব্যক্তিগত ঝুঁকি—এসবের মধ্য দিয়েই একজন সাংবাদিককে এগিয়ে যেতে হয়। এই পথ সহজ নয়। কিন্তু যাঁরা নীতি ও আদর্শ ধরে রাখতে পারেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরাই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন।

সমাজের মানুষ সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুধু খবর চান না; তাঁরা বিশ্বাসযোগ্য খবর চান। তাঁরা এমন সংবাদ চান, যা তাঁদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। তাই সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় মূলধন কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; জনগণের বিশ্বাস। যে সাংবাদিক মানুষের বিশ্বাস হারান, তিনি ধীরে ধীরে তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ হারান। আর যিনি সত্য, ন্যায় এবং দায়িত্বকে ধারণ করেন, তিনি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

পরিশেষে বলা যায়, সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র কখনো কেবল দ্রুত সংবাদ প্রকাশ নয়। এর প্রকৃত ভিত্তি হলো সুশিক্ষা, নীতি, আদর্শ, দায়িত্বশীলতা এবং কৃতজ্ঞতাবোধ। এই পাঁচটি গুণ একজন সাংবাদিককে শুধু দক্ষ পেশাজীবী নয়, একজন সচেতন নাগরিক এবং সমাজের প্রকৃত পথপ্রদর্শকে পরিণত করে। সংবাদমাধ্যমের শক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সত্যের প্রতি অবিচল থাকে, মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যে সাংবাদিক এই মূল্যবোধগুলো ধারণ করেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে সমাজ, রাষ্ট্র এবং ইতিহাসের কাছে সম্মানিত হয়ে থাকেন।

 

লেখক :

আজম পাটোয়ারী

প্রকাশক

আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা