চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৬ষ্ঠ খন্ড বোরচর এলাকায় ফসলি জমি চাষাবাদ ও ভোগদখলকে কেন্দ্র করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় সেলিম প্রধান (৫২) ও ইয়াছিন শেখ (৩০) নামে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আদালতে দায়ের করা মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত সেলিম প্রধানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নুরুন নাহার (৪৭) বাদী হয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর মতলব উত্তর আমলী আদালতে রাব্বি মাল, ওয়াসিম মাল, পারভেজ মাল, নয়ন মাল, খোকন মাল ও মুন্না মালকে আসামি করে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। মামলার আবেদনে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮৫ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদীপক্ষের মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় ফসলি জমিতে চাষাবাদ ও ভোগদখল করতে হলে আসামিরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত না মেনে আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীপক্ষের ফসলি জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা বাদী ও সাক্ষীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাব্বি মাল চাইনিজ কুরাল দিয়ে সেলিম প্রধানের নাকের বাম পাশে আঘাত করেন। এতে তার গুরুতর কাটা-রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়। ওয়াসিম মাল দা দিয়ে তার বাম পায়ের টাখনুর ওপর ও নিচে আঘাত করে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই দুই স্থানে যথাক্রমে তিনটি ও দুটি সেলাই দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পারভেজ মাল হকিস্টিক দিয়ে সেলিম প্রধানের দুই হাতে আঘাত করে হাড়ভাঙা জখম এবং খোকন মাল লোহার রড দিয়ে তার বাম পায়ে আঘাত করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেলিম প্রধানকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ইয়াছিন শেখের মাথায় নয়ন মাল ধারালো দা দিয়ে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ইয়াছিনের মাথায় কাটা-রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।
মামলার বাদী নুরুন নাহার আহতদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মুন্না মাল লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে চিৎকার শুনে সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন।
পরে সেলিম প্রধান ও ইয়াছিন শেখকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিম প্রধানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আদালতে মামলা দায়েরের পর বাদী ও সাক্ষীদের হত্যার পাশাপাশি বসতঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষ।
তবে মামলায় আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া না পাওয়ায় এ প্রতিবেদনে তাদের বক্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।