May 8, 2026, 12:16 pm
শিরোনামঃ
করোনাকালীন সংকটে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব : মানবিকতা, সামরিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক অনন্য অধ্যায়! আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মায়ের আহাজারি ; মতলবে রিপন হত্যার এক মাস পরও অধরা আসামি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ক্যারিয়ার টক প্রোগ্রাম কোন ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধের দায় ইসলাম নেবে কেন? ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধে ধর্মকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক? মুসলমানদের অন্তঃকলহ ও ঐক্যহীনতা : ইসলাম বিদ্বেষী এবং অন্য ধর্মের আক্রমণের প্রধান কারণ! অঙ্গীকারের ১৩তম বর্ণ প্রতিযোগিতা: মতলব উত্তরে ফল প্রকাশ, মেধাতালিকায় ৫০ শিক্ষার্থী অবহেলায় ভাঙা সড়ক, নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারে স্বস্তি ফিরালেন যুবকরা রাজপথ কাঁপানো মুন্না-হাবিব এবার চাঁদপুর ছাত্রদলের নেতৃত্বে মতলব উত্তরে অবৈধ মজুদ: বিপুল ডিজেল- প্লাস্টিক দানা জব্দ, জরিমানা ১ লাখ

কোন ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধের দায় ইসলাম নেবে কেন?

Reporter Name

বর্তমান বিশ্বে একটি বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যায়—কোন মুসলমান ব্যক্তি অপরাধ করলে, অনেকেই সেই অপরাধকে সরাসরি ইসলামের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একজন ব্যক্তি দুর্নীতি করলে, প্রতারণা করলে, ধ.র্ষণ করলে, ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কিংবা নৈতিক স্খলনে জড়িয়ে পড়লে তখন বলা হয়—“এই হলো ইসলামের শিক্ষা!” অথচ একই ধরনের অপরাধ অন্য ধর্ম, মতবাদ বা নাস্তিক পরিচয়ের কেউ করলে কখনও সেই ধর্ম বা দর্শনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় না। প্রশ্ন হলো—কোন ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধের দায় ইসলাম নেবে কেন?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এর মূল শিক্ষা হচ্ছে ন্যায়, সততা, মানবিকতা, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতি। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অসংখ্যবার মানুষকে অন্যায়, জুলুম, ব্যভিচার, প্রতারণা, হত্যা, অহংকার ও ফ্যাসাদ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে কোনো ব্যক্তি যদি ইসলামের শিক্ষা অমান্য করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তার দায় কীভাবে ইসলামের উপর বর্তায়?

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন—“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন।”—সূরা আন-নাহল : ৯০

এই আয়াতটি ইসলামের নৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইসলাম মানুষকে ন্যায় ও কল্যাণের পথে আহ্বান করে। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্যায় করে, সে ইসলামের আদর্শের অনুসারী নয়; বরং সে ইসলামের নির্দেশ অমান্যকারী।

আজ সমাজে এমন এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে যেখানে কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তি ও ধর্মকে একাকার করে ফেলে। এর ফলে ধর্ম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। একজন ভণ্ড আলেমের অপরাধকে ইসলাম বলা হয়, একজন দুর্নীতিবাজ ধর্মীয় ব্যক্তির অন্যায়কে ইসলামের ব্যর্থতা বলা হয়, অথচ ইসলাম সেই কাজকে বহু আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসলাম কখনো মানুষকে অন্ধ অনুসরণ করতে বলেনি। বরং কোরআন বারবার মানুষকে চিন্তা করতে, বিচার করতে এবং সত্য যাচাই করতে বলেছে। মহান আল্লাহ বলেন—“তোমরা কি চিন্তা করো না?” —সূরা আল-বাকারা : ৪৪

আল্লাহ পাক আবার বলেন—“জ্ঞান না থাকলে কোনো বিষয়ের অনুসরণ করো না।” —সূরা আল-ইসরা : ৩৬

অর্থাৎ ইসলাম নিজেই মানুষকে যুক্তি, বিবেক ও ন্যায়বোধের শিক্ষা দিয়েছে। তাহলে কোনো ব্যক্তি ধর্মের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করলে, তার দায় ধর্মের নয়; দায় সেই ব্যক্তির।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন ছিল মানবতার সর্বোচ্চ উদাহরণ। তিনি ছিলেন “রহমাতুল্লিল আলামিন”—সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত। তাঁর চরিত্র সম্পর্কে আল্লাহ বলেন—“নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।” —সূরা আল-কলম : ৪

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কখনও অন্যায়, নির্যাতন, প্রতারণা বা চারিত্রিক স্খলনকে প্রশ্রয় দেননি। বরং তিনি বলেছেন—“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যার চরিত্র উত্তম।” —সহীহ বুখারী

এখন যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে মুসলমান দাবি করে কিন্তু তার চরিত্রে প্রতারণা, লোভ, হিংসা, ব্যভিচার ও জুলুম থাকে, তাহলে সে ইসলামের আদর্শ বহন করছে না। কারণ ইসলাম নামের চেয়ে কর্মকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু প্রচারমাধ্যমে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে মুসলমান পরিচয়ের কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তা ব্যাপকভাবে “ইসলামিক সমস্যা” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অপরাধের মূল কারণ ধর্ম নয়; বরং ব্যক্তির লোভ, নৈতিক অবক্ষয়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আত্মিক শূন্যতা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন—“মানুষের কৃতকর্মের কারণেই স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।” —সূরা আর-রূম : ৪১

এই আয়াত প্রমাণ করে যে, মানুষের অন্যায়ের দায় মানুষেরই। আল্লাহ বা তাঁর বিধানের নয়। ইসলাম মানুষকে সতর্ক করেছে, কিন্তু মানুষ নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে অপরাধে লিপ্ত হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইসলামে ব্যক্তি দায়বদ্ধতা অত্যন্ত স্পষ্ট। কোরআনে বলা হয়েছে—“কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” —সূরা আল-আনআম : ১৬৪

এই আয়াত ইসলামের ন্যায়বিচারের অন্যতম মৌলিক নীতি। অর্থাৎ একজনের অপরাধের দায় আরেকজন বহন করবে না। তাহলে একজন মুসলমানের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুরো ইসলাম বা মুসলিম সমাজ বহন করবে কেন?

আজ অনেকেই বলে—“ধর্ম মানুষকে ভালো করতে পারেনি।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষ কি সত্যিই ধর্ম অনুসরণ করেছে? কেউ যদি ডাক্তারি বই পড়ে না, চিকিৎসাবিজ্ঞান মেনে না চলে, তারপর ভুল চিকিৎসা করে রোগী মেরে ফেলে—তাহলে কি চিকিৎসাবিজ্ঞান দায়ী হবে? ঠিক একইভাবে, কেউ ইসলামের নৈতিক শিক্ষা অমান্য করে অপরাধ করলে ইসলাম দায়ী হতে পারে না।

ইসলামে আত্মশুদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন— “নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।” —সূরা আশ-শামস : ৯

অর্থাৎ ইসলামের লক্ষ্য মানুষকে নৈতিকভাবে উন্নত করা। কিন্তু মানুষ যদি সেই শিক্ষা গ্রহণ না করে, তাহলে ব্যর্থতা তার নিজের। সমাজে কিছু মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার করতে চায়। তারা ধর্মের পোশাক পরে, ধর্মের ভাষা ব্যবহার করে, কিন্তু তাদের চরিত্রে ইসলামের সৌন্দর্য থাকে না। ফলে যখন তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। অথচ ইসলামের ইতিহাসে অসংখ্য সত্যিকারের আলেম, সূফী, সাধক ও সৎ মানুষ ছিলেন, যারা মানবতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত উমর (রাঃ), হযরত উসমান (রাঃ), হযরত আলী (রাঃ)—তাঁদের শাসনব্যবস্থা ছিল ন্যায় ও মানবিকতার অনন্য উদাহরণ। তাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও সাধারণ মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাহলে আজ কিছু ব্যক্তির অন্যায়ের কারণে ইসলামকে দায়ী করা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

পবিত্র কোরআনে মুনাফিকদের সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা এসেছে। কারণ তারা বাইরে ধর্মীয় পরিচয় বহন করলেও ভেতরে ছিল প্রতারণা ও অসততা। আল্লাহ বলেন—“নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।” —সূরা আন-নিসা : ১৪৫

এখানে বোঝা যায়, ইসলাম শুধু বাহ্যিক পরিচয় দেখে না; বরং অন্তরের সত্যতা ও চরিত্রকে মূল্যায়ন করে। আবার কোরআনে বলা হয়েছে—“আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের পরিবর্তন করে।”—সূরা আর-রাদ : ১১

অর্থাৎ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য ধর্ম নয়; মানুষের ভুল চিন্তা, লোভ ও অন্যায় দায়ী।

বর্তমানে অনেকেই ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করে। কেউ ধর্মের আড়ালে দুর্নীতি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ ক্ষমতা চায়। কিন্তু এসব কাজ ইসলামের নয়; বরং ইসলামের অপব্যবহার। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন—“যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” —সহীহ মুসলিম

এই হাদিস স্পষ্ট করে যে, প্রতারণা ও অসততার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলাম নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ—সবকিছুকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। অথচ আজ এসব অপরাধ মুসলিম পরিচয়ের কেউ করলে বলা হয়—“ইসলাম এমনই।” এটি শুধু অজ্ঞতাই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিও হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন—“নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীলতা ও অন্যায়কে পছন্দ করেন না।”—সূরা আল-আরাফ : ৩৩

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাজের জন্য দায়ী। কেউ অন্যায় করলে সে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে। ইসলাম কখনো কোনো ব্যক্তির অপরাধকে সমর্থন করে না, সে যত বড় আলেম, নেতা বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বই হোক না কেন। আজ প্রয়োজন ব্যক্তি ও ধর্মের পার্থক্য বোঝা। একজন ব্যক্তি মুসলমান হতে পারে, কিন্তু তার প্রতিটি কাজ ইসলাম নয়। যেমন একজন ডাক্তার অপরাধ করলে চিকিৎসাবিজ্ঞান দায়ী হয় না, একজন শিক্ষক অপরাধ করলে শিক্ষাব্যবস্থা দায়ী হয় না—ঠিক তেমনি একজন মুসলমান অপরাধ করলে ইসলাম দায়ী হতে পারে না। কোরআনে বলা হয়েছে— “সত্য ও মিথ্যা কখনো সমান হতে পারে না।” —সূরা আল-মায়িদা : ১০০

ইসলাম সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। আর অপরাধ, জুলুম ও চারিত্রিক অবক্ষয় হচ্ছে মানুষের প্রবৃত্তির অনুসরণ। এই দুইকে এক করা জ্ঞানগত অন্যায়। দুঃখজনকভাবে আজ অনেক মুসলমানও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা না জেনে আবেগপ্রবণ আচরণ করে। কেউ ব্যক্তি সমালোচনাকে ধর্মবিরোধিতা মনে করে, কেউ আবার ধর্মীয় পোশাক দেখেই কাউকে নিষ্পাপ ভাবতে শুরু করে। ফলে ব্যক্তি অপরাধ আড়াল পায়, আর ধর্ম সমালোচিত হয়। ইসলাম কখনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দিতে বলেনি। বরং ইসলামে ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন—“তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে, তারা সম্ভ্রান্তদের অপরাধ ক্ষমা করত আর দুর্বলদের শাস্তি দিত।” —সহীহ বুখারী

অর্থাৎ ইসলামে বিচার সবার জন্য সমান। আজ মুসলিম সমাজের দায়িত্ব হলো—ব্যক্তির অপরাধকে ব্যক্তি অপরাধ হিসেবেই দেখা এবং ইসলামের প্রকৃত নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরা। একই সাথে ধর্মের নামে অপরাধকারীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।

ইসলামকে জানার জন্য ইসলাম পড়তে হবে—কিছু মানুষের আচরণ নয়। কারণ মানুষ ভুল করতে পারে, দুর্বল হতে পারে, লোভে পড়তে পারে; কিন্তু আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (সাঃ)-এর শিক্ষা চিরকাল সত্য ও কল্যাণময়।

শেষ পর্যন্ত একটি কথাই স্পষ্ট—কোন ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধের দায় ইসলাম নেবে না। ইসলাম একটি পবিত্র আদর্শ, আর অপরাধ মানুষের নফস, লোভ ও নৈতিক ব্যর্থতার ফল। তাই ব্যক্তি ও ধর্মকে গুলিয়ে ফেলা শুধু অন্যায় নয়, বরং সত্যকে বিকৃত করার সামিল।

আমাদের উচিত আবেগ নয়, জ্ঞান দিয়ে বিচার করা। কারণ ধর্মের সৌন্দর্যকে বুঝতে হলে ধর্মের মূল উৎস—পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের দিকে ফিরে যেতে হবে। সেখানে আমরা দেখতে পাবো—ইসলাম মানুষকে ধ্বংস নয়, মানবতা; ঘৃণা নয়, ন্যায়; অন্যায় নয়, চরিত্রবান জীবন গঠনের শিক্ষা দেয়।

 

লেখক :
আজম পাটোয়ারী
প্রকাশক
আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা