June 13, 2026, 12:24 pm
শিরোনামঃ
হজ : বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের প্রতীক মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হেফজ বিভাগের ছাত্র ইরফান, উৎকণ্ঠায় পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘাশিরচর সর্বসেবা সংগঠনের নতুন যাত্রা ; দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আগামী মাসেই টেন্ডারে যাচ্ছে মতলব-গজারিয়া সেতু, হবে ফোর লেন সড়কও : জালাল উদ্দিন এমপি একজন জনপ্রতিনিধির ইতিবাচক গুণাবলী কেমন হবে? উন্নয়ন বনাম অপপ্রচার : জনআস্থার নাম স্বপন দেওয়ানজী মিথ্যা অপবাদ ও মানহানির বিরুদ্ধে মতলব উত্তরে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সভা মতলব উত্তরে সরকারি আইনগত সহায়তা বিষয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক : উদ্ধার ৪ চোরাই মোটরসাইকেল ইউআইএইচপি ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য

স্মৃতি, প্রযুক্তি ও রক্তের টানে ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল চৌধুরী

মমিনুল ইসলাম, মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
Oplus_16908288

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ঘটেছে এক বিরল ও হৃদয়বিদারক পুনর্মিলনের ঘটনা, যা স্থানীয়ভাবে এখন “অলৌকিক প্রত্যাবর্তন” হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

জানা গেছে প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী অবশেষে ফিরে পেয়েছেন তার জন্মপরিচয়, পরিবার এবং শেকড়ের ঠিকানা।

পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র ৫–৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন শিশু দুলাল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন। পালক পরিবারে তিনি স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন, তবে প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অজানা থেকে যায়।

বহু বছর পর পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু করেন তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। সামাজিক বাস্তবতা ও পরিচয় সংকটের প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় সেই অনুসন্ধান। এক পর্যায়ে কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একটি সাধারণ পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতি থেকে উঠে আসে কিছু অস্পষ্ট সূত্র নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নাম। সেই স্মৃতির সূত্র ধরেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।

প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস ও এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশব স্মৃতির সঙ্গে এলাকার পুরনো নিদর্শনগুলো মিলতে শুরু করে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন যে, বাড়ির পুরনো গেট, খালপথ, আমগাছ এবং লবণ তোলা ঘাট নামে পরিচিত একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই ছিল। একই সঙ্গে জানা যায়, একসময় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সবশেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রক্তের সম্পর্কের মিল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদ মুহূর্তেই কান্না, আবেগ ও আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী তার নিজ পরিবারে ফিরে এসে স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে পরিবার ও স্থানীয়রা একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি, অন্যদিকে তেমনি এক বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলন হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধুই একটি পরিবারের ফিরে পাওয়া নয় বরং রক্তের টান কখনো মুছে যায় না তারই বাস্তব ও জীবন্ত প্রমাণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা