চাঁদপুরের মতলব উত্তরের এখলাছপুর ইউনিয়নের এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায় দুই যুগ আগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে বসবাস করলেও এখনো তারা পায়নি ন্যূনতম বসবাসযোগ্য পরিবেশ।
জানা যায়, ছিন্নমূল ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৮-৯৯ সালে ৮০টি এবং ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে আরও ৫০টি পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এসব ঘরে বর্তমানে প্রায় ১৩০টি পরিবার বসবাস করছে।
কিন্তু নির্মাণের পর থেকে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার বা মেরামত না হওয়ায় অধিকাংশ ঘরই এখন জরাজীর্ণ। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরের টিনের ছাউনি ফুটো হয়ে পানি পড়ে, ভাঙা দরজা-জানালা ও নষ্ট বেড়ার কারণে অনেক ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেকেই পলিথিন ও পুরনো কাপড় দিয়ে কোনোরকমে ঘর মেরামত করে বসবাস করছেন।
সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে, ফলে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় বাসিন্দাদের। বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। একইসঙ্গে টিউবওয়েল ও টয়লেটের বেহাল অবস্থার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এসব নষ্ট হলে নিজের খরচেই তা মেরামত করতে হয় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রামপ্রশাদ বলেন, জায়গা-জমি না থাকায় এখানে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু ঘরগুলো এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, এখানে থাকা এখন খুবই কষ্টকর।
আরেক বাসিন্দা সোলেমান জানান, গৃহহীনদের জন্য নতুন নতুন ঘর তৈরি করা হচ্ছে, কিন্তু ২০ বছর আগে আমাদের যে ঘর দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো খোঁজখবর আজ পর্যন্ত কেউ নেয়নি।
হারুন বাদশা বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভাঙাচোরা ঘর। অনেক ঘরেই থাকার মতো অবস্থা নেই। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, তারা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।