প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের সময় জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী টোকিওতে না থেকে ঢাকায় থাকবেন—এ সিদ্ধান্তকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যু নয়; এটি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক বিষয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে প্রধানমন্ত্রীর ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জাপান সফরের সময় টোকিওতে না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ফলে এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ, কূটনৈতিক অসন্তোষ বা অন্য কোনো কারণকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের ভিত্তি নেই।
প্রতিমন্ত্রী একই সঙ্গে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে এসব ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। 
কূটনৈতিক সফরের সময় দূতাবাসের দায়িত্ব, রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি এবং সরকারি প্রতিনিধিদলের কার্যক্রম সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সফর-সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার অংশ। তবে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ জানা না থাকায় এ বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা অনুমান যোগ করা উচিত নয়। আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হলে সিদ্ধান্তটির প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক এবং সেখান থেকে কী ধরনের বাস্তব অগ্রগতি আসে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মতো বিষয়ে অগ্রগতি হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সফর ঘিরে কূটনৈতিক নিয়োগ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হলেও তা যেন যাচাইহীন দাবিতে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রাষ্ট্রদূতের অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য এবং মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যই এ মুহূর্তে সংবাদটির ভিত্তি।