বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান (রহ.)-এর মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ফাতেমা (৭) মাজার এলাকায় বসবাসরত এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। সে মায়ের সঙ্গে মাজার সংলগ্ন এলাকাতেই বসবাস করত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফাতেমা গোসলের জন্য দিঘিতে নামলে হঠাৎ একটি কুমির তাকে আক্রমণ করে। মুহূর্তের মধ্যেই কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশির পর রাতেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তারা নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকার ও দিঘিতে থাকা কুমিরের কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় নানা ধরনের ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান অব্যাহত রেখে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একই কুমির একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক এ মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, হযরত খান জাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমির থাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। তবে বর্তমানে দিঘিতে থাকা কুমিরটি ঐতিহাসিক বংশধারার নয়। ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কুমিরগুলোর মধ্যে বর্তমানে একটি কুমির জীবিত রয়েছে।
লোকালয়ের মাঝখানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দিঘিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।