September 8, 2026, 6:05 pm
শিরোনামঃ
কোটচাঁদপুরের প্রবীণ সাংবাদিক শেখ নজরুল ইসলামের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মতলব উত্তরে গ্ৰীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পুলিশের অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার গ্রেপ্তারের তথ্য দেরিতে প্রকাশ মতলব উত্তরে পৃথক ঘটনায় কিশোরীসহ দুজনের আত্মহত্যা মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের আগ্রাসন ; মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে রামপালের জনপদ বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রানু মজুমদার মতলব উত্তরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ মায়ের হাত ধরে হাঁটছিল শিশু ফারিয়া, বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় কেড়ে নিল প্রাণ মতলব দক্ষিণে ৪৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩২ শিক্ষার্থী পেলে ফুটবল বুট

মতলব উত্তরে গ্ৰীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি :

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্ৰীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতিটি স্কুল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজার ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলার মাধ্যমমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি মতলব উত্তর উপজেলার রশিদ দিয়ে সদ্য গঠিত মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে উপজেলার ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ক্রীড়া ফি (চাঁদা) বাবদ আদায় করা হয়।

ছিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল হক পাটোয়ারী বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাঁদা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন, শিক্ষক সমাবেশসহ নানা অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি গত মাসেও শিক্ষক সমাবেশের কথা বলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি সফল করার নামেও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অনেক প্রধান শিক্ষক অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সমিতির চাপের কারণে এসব টাকা দিতে বাধ্য হন।

অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষকরা বলেন, এসব টাকা কোথায়, কিভাবে এবং কতটুকু খরচ করা হচ্ছে তার স্বচ্ছ হিসাবও অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। এমনকি টাকা উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত কোনো রেজুলেশন করা হয় না বলেও তারা অভিযোগ করেন। ফলে শিক্ষক সমিতির নামে আদায় করা এসব অর্থের হিসাব-নিকাশ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজার ও শিক্ষক সমিতির সমন্বয়ে ক্রীড়া ফি বাবদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায়ের রসিদ (কপি) দিয়েই টাকা নেওয়া হয়েছে।

নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্লা বলেন, ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে আমাদেরকে জানিয়েছে ৩৫০০ টাকা করে দিতে হবে। আমাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের রসিদ (কপি) দিয়েই টাকা নিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধনাগোদা তালতলী স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারুকুল আলম বলেন, মতলব উত্তরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কুল প্রধানদের সাথে আলোচনা করে ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ক্রীড়া ফি (চাঁদা) উত্তোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ টাকা কিভাবে খরচ করা হয় জানতে চাইলে তিনি চাঁদপুর আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী বাবদ প্রতি একজনের জন্য ১২ টাকা করে ক্রীড়া খরচের ফি ধরা হয়েছে। এর বাইরে যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে থাকে, তাহলে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, গ্ৰীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রোগ্রাম প্রতি বছরই হয়ে থাকে। কিন্তু শিক্ষক সমিতি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস রসিদ কপি দিয়ে (চাঁদা) উত্তোলনের বিষয়টিতে আমি অবগত নই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা