মোংলা-য় অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে র্যাব ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেল জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মোট ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে মোংলা পৌর এলাকার বিভিন্ন বাজারে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসিনা আরিফ।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোংলার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আসছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে এনএসআই তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরবর্তীতে র্যাব-৬ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ‘ইউছুপের তেলের গুদাম’ থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এছাড়া মুদি বাজারের সোভা স্টোর থেকে ৭৫ ব্যারেল এবং মেসার্স জালাল স্টোর থেকে ১৩৫ ব্যারেল ভোজ্য তেল উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জব্দকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা মজুদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানায় প্রশাসন। অধিক মুনাফার আশায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতেই এসব তেল মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গুদাম মালিক ইউছুপকে ৫০ হাজার টাকা, জালাল স্টোরকে ৬০ হাজার টাকা, সোভা স্টোরকে ১৫ হাজার টাকা এবং একটি মোটরযানকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় জব্দকৃত তেল দ্রুত সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বাজারে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসিনা আরিফ জানান, অবৈধ তেল মজুদের সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে যারা বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।