October 25, 2026, 5:32 pm
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে আজ রাতে ঢাকা ছাড়ছেন, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জাপানের সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় রাষ্ট্রদূত ঢাকায় থাকবেন, সিদ্ধান্তকে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা

জাপানের সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তাসংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারক বা অন্যান্য দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঢাকায় ও টোকিওতে থাকা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আর্থিক প্যাকেজে বাজেট সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সহযোগিতা থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরে পাঁচ থেকে আটটি দলিল বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার জন্য বরাদ্দ হতে পারে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এই অর্থায়নের শর্ত, সুদের হার, পরিশোধের সময়সীমা এবং কোন প্রকল্পে কত অর্থ ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত পুরো অর্থকে নিশ্চিত ঋণ বা ইতোমধ্যে পাওয়া অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। ঢাকা মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ বড় প্রকল্পে জাপানি অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে। নতুন আলোচনায় এসব প্রকল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অবকাঠামো বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প, বন্দর, জ্বালানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের সমন্বিত পরিকল্পনা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের অর্থায়নের সম্ভাব্য সুফল হলো—উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থের জোগান, অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। তবে ঋণনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের খরচও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঋণের সুদের হার, মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকি, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, বাস্তবায়নের বিলম্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজস্ব থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা—এসব বিষয় অর্থনৈতিক ফলাফল নির্ধারণ করে।

ঢাকা মেট্রোরেলের কিছু প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাপানি ঋণের সুদের হার নিয়ে আলোচনা সফরের সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের আলোচনায় শুধু নতুন অর্থায়ন পাওয়া নয়, বরং বিদ্যমান প্রকল্পের ব্যয় ও শর্ত পর্যালোচনা করাও বাংলাদেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে কোন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, কত অর্থায়ন অনুমোদিত হয়েছে এবং কোন শর্তে তা দেওয়া হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ২ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজকে আলোচনাধীন সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা হিসেবেই উল্লেখ করা সমীচীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা