June 25, 2026, 6:15 pm
শিরোনামঃ
ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির প্রথম পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মতলব উত্তরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মতলব উত্তরে ৩ হাজার ৪৫৫ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ-সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার নতুন দিগন্ত ; ৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা মোংলায় যুদ্ধজাহাজ দ্রুত মেরামতে বিশেষ ডকিং ফ্যাসিলিটি ; নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত মতলব উত্তরে কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পা ভাঙল স্কুলছাত্র ফারহানের বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সামার-২০২৬ সেশনের আইন ও ফার্মেসী বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার

খোশ আমদেদ মাহে রমজান ; সাহরি খাওয়া সুন্নাত, অবহেলা কাম্য নয় (ফজিলত ও গুরুত্ব)

Reporter Name

পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক চলছে। আমরা মাহে রমজানের রোজা শুরু করি সাহরি খাওয়ার মধ্যদিয়ে। রোজা ভাঙ্গা হয় ইফতারের মাধ্যমে। সাহরি খাওয়া সুন্নত, এর মধ্যে অনেক বরকত রয়েছে। সাহরি একজন রোজাদারকে শক্তি সামর্থ্য ও রোজা রাখতে সাহায্য করে এবং পুরো দিন সহজে কাটাতে সহায়তা করে।

এ ছাড়া সাহরি খাওয়া আমাদের এবং আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য করে। সাহরির সর্বোত্তম সময় হলো ফজরের আজানের ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত। এই সময়ে সাহরি খাওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করতে সক্ষম হবে। সাহরির জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার বা অনেক কিছু থাকা জরুরি নয় ,এমনকি পেট ভরে খাওয়াও আবশ্যক নয়, সাহরির নিয়তে খেজুর বা এক ঢোক পানি খেলেও সাহরির সুন্নত আদায় করা যায়। তবে কেউ যদি সাহরি না খেয়েই রোজা রাখার নিয়ত করে তবু তার রোজা সহিহ হবে; কিন্তু সে সাহরির বরকত থেকে বঞ্চিত হবে। (বাদায়েউস সানাইয়ে ২/২৬৬, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৯৫)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরির খাবারে বরকত রয়েছে। (বুখারি শরিফ, হাদিস নং ১৯২৩, মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ১০৯৫)

হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) লিখেছেন, সাহরি খাওয়া নানাভাবে বরকত বয়ে আনে, সাহরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ, আহলে কিতাবদের বিরোধিতা, রোজা রাখাতে সহায়তা, ক্ষুধার কারণে বদ মেজাজ প্রতিরোধ, সাহরির সময় খাবার খেলে শেষ রাতে দোয়া, মোনাজাতের সুযোগ হয় এবং অসহায়দের সাহায্য করা বা সঙ্গে বসিয়ে সাহরি খাওয়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় (ফাতহুল বারী-৪/১৪০)

যারা সাহরি খায় তাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা রহমত বর্ষণ করেন। হাদিস শরিফে এসেছে, সাহরিতে বরকত রয়েছে, তোমরা তা পরিহার কর না: এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি গ্রহণ কর। কেননা যারা সাহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতাগণ তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১১০৮৬ ও ১১৩৯৬)

রোজার বিধান শুধু এই উম্মতের জন্য নয়, পূর্ববর্তী উম্মতের জন্যও রোজার বিধান ছিল। তবে আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার মাঝে সাহরি একটি বিশেষ পার্থক্য। ইহুদি-খ্রিস্টানদের জন্য রাতে ঘুমানোর পর সাহরি খাওয়া হারাম ছিল, তেমনিভাবে ইসলামের শুরুতে মুসলমানদের জন্যও ছিল একই নিয়ম। কিন্তু পরে তা মুসলমানদের জন্য জায়েজ হয়ে যায়। তাই সাহরি খাওয়া মুসলমানদের অনন্য বৈশিষ্ট্য, সঙ্গে আল্লাহ প্রদত্ত মহান নেয়ামতের শুকরিয়াও আদায় হচ্ছে এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতাও হচ্ছে।

হাদিস শরিফে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার মাঝে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া। (মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ১০৯৬)

হাদিস থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, সাহরি খাওয়া সুন্নত ও বরকতময়। আর ইচ্ছাকৃতভাবে তারাবির পর খাবার খেয়ে শুয়ে পড়া এবং সাহরি ত্যাগ করা শুধু রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাত পরিপন্থি নয় বরং ইহুদি-খ্রিস্টানদের অনুসরণ বটে। তাই সুন্নাত হচ্ছে পরিমিত সাহরি খাওয়া।

পরিমিত সাহরি খাওয়া: ইসলাম ধর্ম মধ্যপন্থা পছন্দ করে, সাহরি বাদ দেওয়া ইসলামে গ্রহণীয় নয়, সাহরিতে রোজার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ,তাকওয়ার কথা ভুলে যাওয়াও ভালো কাজ নয়। একদিকে সাহরি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মানুষ বাড়াবাড়িতে লিপ্ত। একেবারে ফজরের আজান পর্যন্ত সাহরিতে ব্যস্ত থাকে। রমজানের শেষ রাতের মতো মূল্যবান সময়ও আল্লাহর দরবারে দোয়া-মোনাজাত ও তাহাজ্জুদের প্রতি লক্ষ নেই। অন্যদিকে কিছু মানুষ আবার ছাড়াছাড়িতে ব্যস্ত। শেষ রাতে ঘুম থেকে ওঠার ভয়ে তারাবিহর পরই খাবার খেয়ে রোজার নিয়তে শুয়ে পড়ে। ইসলামে বাড়াবাড়িও নেই, ছাড়াছাড়িও নেই। ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। যেমনভাবে শেষ রাতে ঘুম থেকে ওঠার ভয়ে তারাবিহর পর খাবার খেয়ে শুয়ে পড়া ইসলাম পছন্দ করে না। তদ্রূপভাবে শেষ রাতের মতো মূল্যবান সময়কে শুধু সাহরিতে কাটিয়ে দেওয়াও পছন্দ করে না। পরিমিত সাহরি খেয়ে তাহাজ্জুদ ও দোয়া-মোনাজাতে ব্যস্ত থাকাই একান্ত কাম্য।

এছাড়াও একটি সাধারণ ভুল হলো, কেউ সাহরি মিস করলে, সেদিন রোজাই ছেড়ে দেয়। সাহরি খাওয়া শুধু সুন্নত, রোজার শর্ত নয়। সাহরি মিস করা রোজা কাজা করার জন্য শরয়ি অজুহাত নয়। তাই সাহরি মিস করার কারণে রোজা ভঙ্গ করা আদৌ উচিত নয়, বরং সাহরি না খেয়েই রোজা রাখা জরুরি ও ফরজ। আমাদের সমাজে আরও একটি সাধারণ ভুল হলো, প্রায়শই সাহরি খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, ফজরের নামাজের প্রতি লক্ষ্য নেই। অনেকেরই ফজরের নামাজ ছুটে যায়, নামাজের জামাত তো ছুটেই। এজন্য সাহরি খেয়ে কখন শুয়ে পড়া ঠিক নয় , ফজরের নামাজ আদায় করে অর্থাৎ নামাজ পড়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে মাহে রমজানের যথাযথ সম্মান করা এবং ইসলামের মধ্যপন্থার চেতনা অনুযায়ী আমলগুলো আদায় করার এবং আলোকিত, স্বচ্ছ এবং সুন্দর জীবন গঠন করার তাওফিক দান করুন,আমিন।।

 

লেখক :

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির

কলামিস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা