বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে চার মাস পর দেশে ফিরছেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে বরণ করে নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
গতকাল সোমবার গণমাধ্যমের কাছে এ প্রত্যাশার কথা জানিয়ে দলের চেয়ারপারসনকে সুশৃঙ্খলভাবে অভ্যর্থনা জানাতে নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছিলেন মির্জা ফকরুল ইসলাম।
এই সময় দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষা আছে। ঢাকার বিমানবন্দর থেকে কাকলী পথ দিয়ে ম্যাডাম গুলশানের বাসায় যাবেন। আমরা সবাই মিলে যথাসাধ্য চেষ্টা করব, যাতে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যেতে কোনো অসুবিধা না হয়। আমি সবাইকে অনুরোধ করতে চাই, রাস্তার ওপরে যেন কেউ না দাঁড়ায়। যাঁরা অভ্যর্থনা জানাবেন, তাঁরা যেন ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ম্যাডামকে অভ্যর্থনা জানান।’
এ সময় রাস্তায় যাতে কেউ দাঁড়াতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল গুলশানের ৮০ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়িটি। ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটি ঘিরে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছে পুলিশ ও চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যরা। বাসার ভেতরের সব কক্ষও ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ফুল গাছের টব দিয়ে সাজানো হয়েছে সামনের সবুজ আঙিনা।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ম্যাডামের বাসা কমপ্লিটলি রেডি। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, বাসার আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জার কোনো কিছুই বাদ নেই। ম্যাডামের স্বজনেরা সবকিছু তদারকি করেছেন। এখন আমরা সবাই ম্যাডামের অপেক্ষায় আছি।’
খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, লন্ডন থেকে ঢাকার যাত্রাপথে দোহায় যাত্রাবিরতি আছে। শিডিউল অনুযায়ী লন্ডন থেকে যাত্রা করে দোহা হামাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবেন স্থানীয় সময় রাত আড়াইটায়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) আগের চেয়ে ভালো আছেন।
গত ৮ জানুয়ারি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে কিছু দিন চিকিৎসা নিয়ে ২৫ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকেও নিজের গাড়ি চালিয়ে মাকে বাড়িতে নিয়ে যান। এবারও যথারীতি তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে বিমানবন্দরে নিয়ে আসেন বলে জানান জাহিদ হোসেন।