June 25, 2026, 9:26 pm
শিরোনামঃ
ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির প্রথম পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মতলব উত্তরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মতলব উত্তরে ৩ হাজার ৪৫৫ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ-সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার নতুন দিগন্ত ; ৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা মোংলায় যুদ্ধজাহাজ দ্রুত মেরামতে বিশেষ ডকিং ফ্যাসিলিটি ; নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত মতলব উত্তরে কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পা ভাঙল স্কুলছাত্র ফারহানের বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সামার-২০২৬ সেশনের আইন ও ফার্মেসী বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার

মতলব উত্তরের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য ডুমুর গাছ : স্মৃতি, সৌন্দর্য ও পরিবেশের ছোঁয়া

মমিনুল ইসলাম:

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলা যেন প্রকৃতির এক উন্মুক্ত গ্যালারি। গ্রামীণ পথ ধরে হাঁটলেই চোখে পড়ে নানা রকম গাছপালা, তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় হলো ডুমুর গাছ (Ficus racemosa)। এ গাছ শুধু ফলের বাহারেই নয়, শৈশবের স্মৃতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়-ঘনিয়ারপাড়, মোহনপুর, টরকী, ইসলামাবাদ, চরপাথালিয়া, লুধুয়া, ছেংগারচর, রুহিতারপাড় এসব অঞ্চলে রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় বা পরিত্যক্ত স্থানে দেখা মেলে এই ডুমুর গাছের।

সম্প্রতি ঘনিয়ারপাড় গ্রামে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনের একটি ডুমুর গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে, যা পথচারীদের নজর কাড়ছে। কাণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সবুজ ডুমুর যেন গাছটিকে পরিণত করেছে এক শিল্পকর্মে। এ রকম দৃশ্য কেবল ওই এলাকায় নয়, উপজেলার আরও নানা জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্দীপনা জাগাচ্ছে।

আমুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক ইসমাইল খান টিটু বলেন, “আমরা ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় এমন গাছ থেকে ডুমুর পেড়ে লবণ-মরিচের গুড়া মাখিয়ে খেতাম। আজও সেই স্বাদ ভুলতে পারিনি।”

কলেজপড়ুয়া ছাত্র ইমরান হোসেন বলেন, “এই গাছগুলো আমাদের এলাকাকে সাজিয়ে রেখেছে। শহরের মতো বিল্ডিং নয়, আমাদের সৌন্দর্য এই প্রকৃতির ভেতরে।”

পরিবেশকর্মী শামীম হোসেন বলেন, “এই গাছগুলো শুধু চোখের আনন্দই নয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। খেয়াল করলে দেখা যাবে, পাখিরা এই গাছেই বেশি আসে, মৌমাছিরাও ভিড় করে।”

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, “আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকল্প নিচ্ছি যেখানে সরকারি রাস্তার পাশে ফলদ, ঔষধি ও ছায়াদানকারী গাছ লাগানো হবে। ডুমুর গাছ থাকবে বিশেষভাবে সংরক্ষণের আওতায়।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, “ডুমুর ফল ও ছাল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এটি পাখির খাদ্য ও বাসস্থান সরবরাহ করে। রাস্তার পাশে এ ধরনের গাছ সংরক্ষণে আমরা সচেষ্ট।”

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম বলেন, “এ ধরনের প্রাকৃতিক গাছ শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় ঐতিহ্য ও স্মৃতি বহন করে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ গাছগুলো সংরক্ষণ এবং আরও রোপণের জন্য পরিকল্পনা নিচ্ছি।”

মতলব উত্তরের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ডুমুর গাছ যেন একেকটি জীবন্ত ইতিহাস, যেখানে মিশে আছে প্রকৃতি, মানুষ আর সময়ের গল্প। এই গাছগুলো শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, প্রজন্মের পর প্রজন্মের শৈশব স্মৃতি বহন করে। তাই আজ প্রয়োজন, এসব গাছকে কেবল দেখা নয়—সংরক্ষণ ও সম্মানের সাথে আগামীর জন্য রেখে যাওয়া।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা