October 25, 2026, 8:45 am
শিরোনামঃ
ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় প্রায় পুরো তাইওয়ানে স্থবিরতা, শত শত ফ্লাইট বাতিল সাজেকে অবরোধ ঘিরে গুলিবিনিময়, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

কোরবানির ঈদ ঘিরে মতলব উত্তরে বেড়েছে খামারিদের ব্যস্ততা ; চাহিদার তুলনায় গরুর সংকট

মমিনুল ইসলাম:
Oplus_131072

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গরু-ছাগল প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এখানেও চলছে জোর প্রস্তুতি। উপজেলা জুড়ে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি কোরবানির উপযোগী গবাদিপশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা ও গৃহস্থেরা।

পশু খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কিছুটা চাপ থাকলেও ভালো লাভের আশায় আশাবাদী খামারিরা। তবে ভারতীয় গরুর আমদানিকে কেন্দ্র করে রয়েছে উদ্বেগ। তারা মনে করছেন, ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হলে দেশীয় পশুর চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পাবে, যা খামারিদের জন্য হবে ইতিবাচক।

চাহিদার তুলনায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও খামারিরা আশাবাদী যে, সঠিক তদারকি ও বাজার পরিস্থিতি থাকলে ভালো মূল্য পাবেন তাঁরা। দেশীয় গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ও সরকারের সহযোগিতা হলে স্থানীয় খামার শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার বিভিন্ন খামারে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, খামারিরা প্রাকৃতিক খাদ্য—যেমন খৈল, কুটা, খাস ও দানাদার খাদ্য ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত। প্রতিবারের মতো এবারও স্থানীয় কোরবানির হাটে গরু বিক্রির আশায় চলছে তাদের নিরলস প্রস্তুতি।

সারমিন এগ্রো ডেইরি খামারের মালিক কামরুল ইসলাম জানান, আমরা সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার দিয়েই গরু মোটাতাজা করছি। পশু খাদ্যের দাম এবার একটু বেশি, কিন্তু আশা করছি ভালো দাম পাব। যেহেতু কেমিক্যাল ব্যবহার করছি না, ক্রেতারা সন্তুষ্ট হবেন।

নেচার রেঞ্জ এগ্রোর পরিচালক মো. হাসান বলেন, গরুর পরিচর্যায় খরচ এবং শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। কিন্তু যদি ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ না হয়, তাহলে দেশীয় গরুর দাম ন্যায্যভাবে পাব কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা যায়, এবার মতলব উত্তর উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ৪ হাজার ৮০৩টি পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ২ হাজার ২০টি, বলদ ৯১০টি, গাভী ৬৯৪টি, মহিষ ৬টি, ছাগল ৯৩০টি এবং ভেড়া ১১৭টি।

তিনি আরও জানান, কোরবানির জন্য উপজেলায় গরুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪২০টি, ফলে চাহিদার তুলনায় গরুর ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে স্থানীয় খামারিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, খামারিদের আমরা নিয়মিত তত্ত্বাবধান করছি। দেশীয় খাবার ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছি এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ বন্ধে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছি। ঈদের সময় প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি টিম থাকবে, যাতে কেউ রোগাক্রান্ত বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা গরু বিক্রি করতে না পারে।

তিনি আরও জানান, মনিটরিং টিম নিয়মিত খামারগুলো পরিদর্শন করছে এবং যেকোনো ধরনের অসাধু কার্যকলাপ ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা