একটি রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী কেবল অস্ত্রধারী একটি বাহিনী নয়; এটি সেই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একটি দেশের রাজনীতি বিভক্ত হতে পারে, সমাজে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সেনাবাহিনীকে থাকতে হয় শৃঙ্খলাবদ্ধ, নিরপেক্ষ, পেশাদার এবং রাষ্ট্রের প্রতি শতভাগ অনুগত। কারণ, রাষ্ট্রের শেষ ভরসাস্থল যদি কোনো প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকে, তবে তার অন্যতম হলো সেনাবাহিনী। আর সেই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে থাকা একজন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক নয়; বরং নৈতিক, কৌশলগত এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টও। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সময়কাল নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্ক থাকলেও একটি বিষয় তাঁর সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্যে বারবার উঠে আসে—তিনি ছিলেন বাহিনীর শৃঙ্খলার প্রশ্নে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন মহলে একটি অভিযোগ প্রায়ই উচ্চারিত হয়েছে যে, জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সময় নাকি বিপুল সংখ্যক সেনা কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। কেউ বলেছেন ১৫০ জন, কেউ বলেছেন ২৫০ জন। এই সংখ্যাগুলো এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যেন পুরো বিষয়টি ছিল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব কিংবা ইচ্ছাকৃত নিপীড়নের অংশ। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এতটা সরল? নাকি এর পেছনে ছিল সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব রক্ষার কঠোর নীতি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আবেগ নয়, বরং সেনাবাহিনীর কাঠামো, নীতিমালা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বাস্তবতা বিবেচনা করতে হয়।
সেনাবাহিনী পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় আলাদা। এখানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অনেক বিষয়ও সীমাবদ্ধ থাকে। একজন সেনা কর্মকর্তা শুধু নিজের ব্যক্তি পরিচয়ে পরিচিত নন; তিনি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। তাঁর হাতে থাকে সংবেদনশীল তথ্য, কৌশলগত পরিকল্পনা, সামরিক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে তাঁর আনুগত্য, বিশ্বস্ততা এবং নৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ থাকলে তা পুরো বাহিনী তথা রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রায়ই আলোচিত হয় সেনাবাহিনীর সেই নীতিমালার বিষয়টি, যেখানে চাকরিরত অবস্থায় অন্য দেশের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পাসপোর্ট/পিআর/গ্রিন কার্ড) গ্রহণের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে—জেনারেল কনফারেন্সে ২০১৭ সালে। বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট সেনাসদর থেকে “Policy on Permission for Immigration to Foreign Countries” শিরোনামে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, একজন চাকরিরত সেনা কর্মকর্তা অন্য দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব কিংবা স্থায়ী রেসিডেন্স রাখতে পারবেন না। এমনকি কেউ যদি অভিবাসন ভিসা বা পিআর পাওয়ার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে পৌঁছান, তবে তাঁকে অবিলম্বে অবসর বা পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য আবেদন করতে হবে। এই নীতির পেছনের যুক্তি বোঝা খুব কঠিন নয়। একজন সেনা কর্মকর্তা যদি একইসঙ্গে অন্য একটি দেশের নাগরিকত্বের সুবিধা গ্রহণ করেন, অথবা তাঁর পরিবার অন্য দেশের স্থায়ী নাগরিক সুবিধা ভোগ করে, তাহলে তাঁর আনুগত্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে “দ্বৈত আনুগত্য” একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। পৃথিবীর বহু দেশেই সামরিক সদস্যদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর নিয়ম বিদ্যমান।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সময় এই নীতিমালাকে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল বলেই জানা যায়। বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে যে, কিছু সেনা কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিদেশি নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তা যথাযথভাবে সেনাসদরকে জানাননি। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সামনে দুটি পথ খোলা রাখা হয়—হয় বিদেশি নাগরিকত্ব বা পিআর ত্যাগ করতে হবে, নয়তো সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিতে হবে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সবাইকে একযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। বরং যাঁরা বিদেশি নাগরিকত্ব বা পিআর ত্যাগ করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই সেনাবাহিনীতে বহাল ছিলেন, এখনও চাকরিরত আছেন। আর যাঁরা নিজের বা পরিবারের দ্বৈত নাগরিকত্ব/পিআর/গ্রিন কার্ড ত্যাগ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাঁদেরকে নিয়ম অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অবসরে পাঠানো হয়। ফলে বিষয়টিকে “অন্যায়ভাবে গণচাকরিচ্যুতি” হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক, সেটি বিবেচনার বিষয়। একটি সেনাবাহিনী তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে শৃঙ্খলা ও নীতিমালার প্রয়োগ সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর থাকে। যদি কোনো কর্মকর্তা তাঁর ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, অথচ একইসঙ্গে দেশের সামরিক গোপনীয়তার দায়িত্বও পালন করেন, তাহলে সেটি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগের কারণ হওয়া খুবই যৌক্তিক এবং স্বাভাবিক। একজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে যা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, একজন সেনা কর্মকর্তার ক্ষেত্রে তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সমর্থকরা দাবি করেন, তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণেই কিছু অসন্তুষ্ট গোষ্ঠী পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত কিছু সাবেক সেনা সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়াতে থাকেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শৃঙ্খলাজনিত কারণে চাকরিচ্যুত বা বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এসব প্রচারণায় জড়িত হন। তবে একটি রাষ্ট্রে সমালোচনা থাকতেই পারে। যে কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকবে, প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে তথ্য, প্রেক্ষাপট ও নীতিগত বাস্তবতাও দেখতে হবে। শুধুমাত্র “কতজন চাকরি হারাল” এই সংখ্যার ভিত্তিতে পুরো বিষয়কে বিচার করলে বাস্তবতা আড়াল হয়ে যেতে পারে।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সময় সেনাবাহিনীতে আরেকটি বিষয় নিয়ে কঠোরতা দেখা যায় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে—মাদক, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং পরকীয়াজনিত অনৈতিক সম্পর্কের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি। সেনাবাহিনীর মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয় শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; বরং বাহিনীর শৃঙ্খলা, ভাবমূর্তি এবং পারস্পরিক আস্থার সঙ্গে জড়িত। একজন সেনা কর্মকর্তা বা সেনা সদস্য যদি মাদকাসক্ত হন, দুর্নীতিতে জড়ান বা নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, তাহলে তা পুরো বাহিনীর সুনামের জন্য ক্ষতিকর হতে বাধ্য। বলা হয়ে থাকে, জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ এসব বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করেননি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সমর্থকদের মতে, এই কঠোর অবস্থানের কারণেই কিছু অসন্তুষ্ট মহল বা ব্যক্তি তাঁকে “কঠোর”, “নির্দয়” কিংবা “বিতর্কিত” হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর যেকোনো পেশাদার সেনাবাহিনীতেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হয়। কারণ সেনাবাহিনীকে যদি সাধারণ প্রতিষ্ঠানের মতো শিথিলভাবে পরিচালনা করা হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেনাবাহিনীতে “জিরো টলারেন্স” কোনো নতুন ধারণা নয়; বরং এটি পেশাদার সামরিক সংস্কৃতির অংশ। অনেক সময় সাধারণ মানুষ একটি বিষয় ভুলে যান—সেনাবাহিনীর ভেতরের সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। নিরাপত্তাজনিত কারণেই বহু সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। ফলে বাইরে থেকে অনেক সিদ্ধান্ত কঠোর বা বিতর্কিত মনে হলেও ভেতরের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে যেসব সমালোচনা হয়েছে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ও রয়েছে। তবে তাঁর সমর্থকরা দাবি করেন, এসবের পেছনেও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করেছে। তাঁদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বপক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক অবদান, দায়িত্ব পালন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। করোনাকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে। সেই সময় সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তা, কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ বিতরণ, হাসপাতাল অবকাঠামো প্রস্তুত এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেই মনে করেন, সেই সময় তাঁর নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় বহন করেছিল। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—একজন সেনাপ্রধানের কাজ শুধু বাহিনীর ভেতরের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; বরং বাহিনীর মনোবল ধরে রাখা। যদি বাহিনীর সদস্যরা মনে করেন যে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাহলে পুরো কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে বাধ্য। ফলে কঠোরতা কখনো কখনো জনপ্রিয় না হলেও প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সমর্থকরা প্রায়ই বলেন, তিনি হয়তো সবার প্রিয় ছিলেন না, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপস করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরা ক্ষুব্ধ ছিলেন, তাঁদের বড় একটি অংশই নাকি শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। এই দাবির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এটিও সত্য যে, কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলে অসন্তুষ্ট পক্ষ তৈরি হবেই। ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক সামরিক নেতা তাঁদের জীবদ্দশায় সমালোচিত হয়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের সিদ্ধান্তের পেছনের বাস্তবতা নতুনভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। কারণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা সাধারণ মানুষের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রিয় নাও হতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্য, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভূমিকা, জাতীয় সংকটে সহায়তা—সব মিলিয়ে বাহিনীটির একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। সেই বাহিনীর ভেতরের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব ধরে রাখার দায়িত্ব সেনাপ্রধানের অন্যতম বড় দায়িত্ব। জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সময় সেই দায়িত্ব পালনে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন বলেই তাঁর সমর্থকরা মনে করেন। সমালোচনার বিপরীতে একটি প্রশ্নও তাই উঠে আসে—যদি সেনাবাহিনীর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে কি পুরোপুরি অন্যায় বলা যায়? নাকি সেটি ছিল একটি পেশাদার বাহিনীর স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া?
একজন সেনানায়কের সাফল্য কেবল জনপ্রিয়তায় নয়; বরং বাহিনীর সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতায়ও প্রতিফলিত হয়। জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সময়কাল নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর কঠোর শৃঙ্খলানীতি এবং পেশাদার সেনাবাহিনী গঠনের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা বহুদিন চলবে।
সবশেষে বলা যায়, কোনো ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করতে হলে একপাক্ষিক আবেগ নয়, বরং পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন। জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের সময় সেনাবাহিনীতে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেউ কঠোরতা হিসেবে দেখেন, কেউ পেশাদারিত্ব হিসেবেও দেখেন। তবে এটুকু অস্বীকার করা কঠিন যে, তিনি সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন বলেই তাঁর নাম নিয়ে এত আলোচনা আজও বিদ্যমান।
তথ্যসূত্র / রেফারেন্স
১. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army)
(সেনাবাহিনীর নীতিমালা, কাঠামো ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সংক্রান্ত সাধারণ তথ্য)
২. সেনাসদর নির্দেশনা / Policy on Immigration (২০১৭)
“Policy on Permission for Immigration to Foreign Countries”, Bangladesh Army Headquarters, 2017 (circulated internal directive as referenced in public discussions)
৩. Constitution of the People’s Republic of Bangladesh
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো সম্পর্কিত ধারা)
৪. United Nations Peacekeeping Operations
UN Peacekeeping Contributions of Bangladesh
(বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত তথ্য)
৫. The Daily Star (Bangladesh)
(সামরিক বাহিনী, প্রশাসনিক নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদন)
৬. Prothom Alo
(প্রতিরক্ষা, প্রশাসন ও সমসাময়িক জাতীয় ইস্যু বিষয়ক প্রতিবেদন)
৭. BBC News Bangla
(বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সমসাময়িক ঘটনা বিশ্লেষণ)
৮. আন্তর্জাতিক সামরিক নীতিমালা তুলনামূলক অধ্যয়ন
Jane’s Defence Weekly / Global Security Reports
(বিভিন্ন দেশের সামরিক শৃঙ্খলা ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ)
৯. COVID-19 Response in Bangladesh Armed Forces
Government & Military Coordination Reports (2020–2021)
(করোনাকালে সেনাবাহিনীর মানবিক ও প্রশাসনিক ভূমিকা সংক্রান্ত সরকারি ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন)
লেখক :
আজম পাটোয়ারী
প্রকাশক
আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।