June 10, 2026, 8:07 pm
শিরোনামঃ
মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক : উদ্ধার ৪ চোরাই মোটরসাইকেল ইউআইএইচপি ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য স্মৃতি, প্রযুক্তি ও রক্তের টানে ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল চৌধুরী মতলব উত্তরে ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ধর্ষণ অভিযোগে রাজনৈতিক নেতা গ্রেপ্তার সুন্দরবনের ত্রাস জোনাব বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্রসহ আটক : কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য মতলব উত্তরে ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা থানায় অভিযোগ বাগেরহাটে আট বছরের শিশুকে ধ.র্ষণের অভিযোগে পরিমল ভক্ত গ্রেফতার মতলবের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমিরুল ইসলাম (খোকা) পাটোয়ারীর ভূমিকা ও তৃণমূল নেতৃত্বের প্রভাব হরিরামপুরে যুবদলের সদস্যকে মারধরের অভিযোগে যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা শাহিন ও তার সহযোগী ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক : উদ্ধার ৪ চোরাই মোটরসাইকেল

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট:

বাগেরহাটের মোংলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মোংলা ও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলেন— মো. রনি হাওলাদার, মেহেদী হাসান, মো. সজীব আহমেদ জয়, মো. সাজেদুল ইসলাম, মো. নাজমুল শেখ এবং তানভীর হোসেন শাওন।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় সুসংগঠিতভাবে মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের অফিস সহকারী শেখ আল-আমিন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মার্কিন জোয়াদ্দারের মোটরসাইকেল দুটি দিগরাজ বাজারের শাহিন হোটেলের সামনে থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং মোটরসাইকেল মালিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।

গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, আটক রনি হাওলাদার এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন। তিনি চুরি করা মোটরসাইকেল দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে বিক্রি করে দিতেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে জনবহুল এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

স্থানীয়দের মতে, দিগরাজ বাজারসহ মোংলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে রনি হাওলাদারের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পরই চক্রটির মূল নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে বাকি পাঁচ সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া চারটি মোটরসাইকেলের মালিকদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে কোনো বৃহত্তর সিন্ডিকেট বা চোরাকারবারি জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন হলে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও চক্রটির সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

মোংলায় সংঘটিত এই চুরির ঘটনা এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারি অভিযান পরিবহন নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। পুলিশের এই সফল অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলেও মোটরসাইকেল চুরি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি মোটরসাইকেল মালিকদেরও উন্নতমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা