October 24, 2026, 11:31 pm
শিরোনামঃ
ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় প্রায় পুরো তাইওয়ানে স্থবিরতা, শত শত ফ্লাইট বাতিল সাজেকে অবরোধ ঘিরে গুলিবিনিময়, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

বাগেরহাটে অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল, ব্যাপক ক্ষতির মুখে কৃষক

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাটঃ

টানা ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও রোদহীন আবহাওয়ার কারণে বাগেরহাটে বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন যখন বাস্তবায়নের পথে, ঠিক তখনই অকাল বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭৩ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ এখনও মাঠে রয়েছে। টানা তিন থেকে চার দিনের অতিবৃষ্টিতে কোথাও কাটা ধান ভিজে নষ্ট হচ্ছে, আবার কোথাও জমিতে পানি জমে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অনেক কৃষক আগাম ধান কাটা শুরু করলেও রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না। ফলে কাটা ধান পচে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, যারা ধান কাটতে পারেননি, তাদের ক্ষেত পানিতে ডুবে থাকায় ধান ঝরে পড়া ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

কচুয়া উপজেলার কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, “চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও অর্ধেক ধান এখনো মাঠে। প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেছি, এখন সব হারানোর আশঙ্কায় আছি।”

আরেক কৃষক সাকিব জানান, “ধান কেটে রেখেছিলাম, কিন্তু শুকাতে পারিনি। বৃষ্টিতে সব পানির নিচে চলে গেছে, কী করব বুঝতে পারছি না।”

বক্কর হাওলাদার বলেন, “সকালে ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ক্ষতিগ্রস্ত ধানের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এতে অন্তত ১২ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও অন্তত ১০ শতাংশ ধান ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপ-পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন, ক্ষতি কমাতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

প্রকৃতির অনিশ্চয়তায় বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া এবং সরকারি সহায়তায় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাওয়া। নচেৎ, সোনালি ধানের স্বপ্নই পরিণত হবে লোকসানের বেদনাদায়ক গল্পে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা