চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরাঞ্চল সমৃদ্ধ এখলাসপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘এখলাসপুর সেন্টার অফ হেলথ – ইকো’ চিকিৎসা সেবায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
“গরিবের হাসপাতাল” নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে শনিবার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ মতবিনিময় সভা ও এলামনাই পুনর্মিলনী।
ইকো’র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামানের আয়োজনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ২০ জনের অধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “অত্যন্ত দূর-দুরান্তে গরিব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবায় ইকো যে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ঢাকায় ব্যস্ত একজন চিকিৎসক হয়েও ডা. মোস্তফা জামান যেভাবে নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। তিনি আমাদের দাওয়াত দেননি, আমরা নিজেদের আগ্রহেই এখানে এসেছি – এটা ইকোর প্রতি আমাদের ভালবাসা এবং সম্মানের প্রতিফলন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, আইসিডিডিআরবি’র সিনিয়র বিজ্ঞানী ডা. শামস আল আরিফীন, আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক জিএস অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ, অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান, নিপসমের সহকারী অধ্যাপক ডা. নওরোজ আফরিন, ইউনিসেফের সাবেক ন্যাশনাল স্পেশালিস্ট ডা. আশেক আহম্মেদ শহীদ রেজা, আইইডিসিআর-এর সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. মোহাম্মদ সাব্বির হায়দার, ইকোর মেডিকেল অফিসার ডা. সোহেল রানা ও সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ সরকার প্রমুখ।
বক্তারা ইকোর ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “গ্রামের এই ছোট একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের অনলাইন রেকর্ড, চিকিৎসাপত্র, টেস্ট রিপোর্ট ডিজিটালি সংরক্ষণ দেখে আমরা অভিভূত। এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই বিরল এবং সময়োপযোগী।”
ইকোর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান বলেন, “স্থানীয় মানুষদের আন্তরিক সহযোগিতায় আজ ইকো গরিবের হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। আমার একটাই ইচ্ছা – এই চরাঞ্চলের মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য শহরে ছুটতে না হয়। এজন্য আমি ও আমার টিম নিরলস কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সেবাকাজ চালিয়ে যেতে চাই।”
অনুষ্ঠানে ইকোর সাবেক ও বর্তমান চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও সকল স্টাফদের অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অতিথিদের আগমনে কেন্দ্রটির সকল সদস্যরা অনুপ্রাণিত হন।