October 9, 2026, 10:42 pm
শিরোনামঃ
চাঁদপুরে দুর্গাপূজায় ২৩২ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে মেঘনা নদীতে কারেন্ট জাল ও চায়না চাই জব্দ, গ্রেপ্তার ৩ ষাটনলে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা শাহ আলম ভূঁইয়ার, মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার মতলবের ডাকঘরগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে সেবা, জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্ক ফেসবুকে নবীজিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, যুবককে ধরে পুলিশে দিল জনতা চাঁদপুরে বিশ্ব ডাক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালী চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দগ্ধ শিশু পাঁচদিন পরে মৃত্যু, অপর শিশু আশঙ্কাজনক সারসংকটেও আমনের হাসি, অনুকূল আবহাওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা বিদেশি কসমেটিকসে স্টিকার নেই, চাঁদপুরে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা খাল-পুকুরে পোল্ট্রি বর্জ্য, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মতলব উত্তরের শতাধিক পরিবার

মতলবে সৎ মা ও সৎ ভাই-বোনদের নির্যাতনে অসহায় পরিবার ; আদালতের দ্বারস্থ!

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর বাইশপুর গ্রামে সৎ মা ও সৎ ভাই-বোনদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক অসহায় পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে গিয়াসউদ্দিনের স্ত্রী খাদিজা বেগম চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে-ইমু মিয়াজী (২৬), আরমান মিয়াজী (২৪), তন্নী (২২), সৎ মা হেপী বেগম (৪৫), তাহমিনা (২২), এবং জিসান মল্লিক (৩৭) কে।

মো. নাছির উদ্দীন মিয়াজীর প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করার পর তার সংসারে থাকা তিন ছেলে ও এক মেয়ে একরকম অবহেলিত জীবন শুরু করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র ৩৩ দিনের মাথায় হেপী বেগমকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন নাছির উদ্দীন। এরপর থেকেই প্রথম ঘরের সন্তানেরা সৎ মায়ের অবহেলা ও অত্যাচারের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দ্বিতীয় সংসারে আরও চার ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নিলে পারিবারিক সম্প্রীতি ভেঙে পড়ে। প্রথম ঘরের বড় দুই ছেলে মহিউদ্দিন ও ফয়েজ প্রায় ২৮ বছর ধরে পিতার বাড়িতে যান না।

বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, সৎ মা ও ভাই-বোনেরা আমাদের বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য নানাভাবে নির্যাতন করছে। ঘরে ঢুকতে বাধা, সন্তানদের ভয়ভীতি—সব মিলিয়ে আমাদের জীবন দুর্বিষহ। তাই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা ন্যায়ের বিচার চাই।

প্রথম ঘরের দুই সন্তান মহিউদ্দিন ও ফয়েজ জানান, আমরা অনেক আগেই এই বাড়ি থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের এতিমখানা পাঠিয়ে দিয়েছে। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই আমাদের প্রতি অবিচার শুরু হয়। ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে আমরা আর ফিরে যেতে পারিনি। আমরা বড় ভাই গিয়াস উদ্দিনকে বলে এসেছি, যেমন করেই হোক তার অধিকার যেন সে আদায় করে।

তারা আরও বলেন, আজও আমাদের সেখানে ঠাঁই নেই। বাড়ি আমাদের, কিন্তু থাকার অধিকার নেই। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ের সঠিক তদন্ত করে নির্যাতিত পরিবারকে রক্ষা করা।

নাছির উদ্দীন জানান, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সংসার সামলাতে আমাকে দ্রুত দ্বিতীয় বিয়ে করতে হয়। কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী হেপীর কথায় পড়ে আমি অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। তার চাপে পড়েই প্রথম ঘরের সন্তানদের এতিমখানায় পাঠানো হয়। আমি আমার প্রথম ঘরের সন্তানদের ঠিক মতন দেখাশোনাও ভরণ পোষণ করতে পারিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা