চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় টানা ২২ দিনের অভিযানে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।
এই সময়ের মধ্যে ৫৫টি মামলা, ১৭৬ জন জেলে আটক, ৫১টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, এবং প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও জব্দ করা শতাধিক কেজি ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা শেষে এখন নদীতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সকালে ষাটনল, মোহনপুর ও আমিরাবাদ, এখলাসপুর, জহিরাবাদ ঘাটজুড়ে জেলেদের ব্যস্ততা, কেউ জাল শুকাচ্ছেন, কেউ নৌকা সাজাচ্ছেন নদীতে নামার প্রস্তুতিতে।
ষাটনল জেলে পাড়ার জেলে টিটু বর্মন জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে নামিনি, এখন আবার জাল ফেলার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। আশা করি নদীতে প্রচুর মাছ পাবো।
একই কথা বলেন মোহনপুর গ্রামের জেলে আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ২২ দিন কষ্টে ছিলাম, কিন্তু মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগে আমরা খুশি। এখন নদীতে নামছি জীবিকা ফিরিয়ে আনতে।
মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় আমরা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছি। অনেক সময় রাতের অন্ধকারে জীবন বাজি রেখে জেলে ধরতে হয়েছে।
এই সাফল্য আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফল। মা ইলিশ সংরক্ষণে আমরা শূন্য সহনশীল নীতি অবলম্বন করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণে মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এর অংশ হিসেবে মতলব উত্তরের ২৫ কিলোমিটার নদী এলাকায় দিনরাত অভিযান পরিচালনা করে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।