September 14, 2026, 7:30 pm
শিরোনামঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় বলেশ্বর নদে বিশাল কুমিরের উপস্থিতি, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বাগেরহাটের শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের  মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ আমনের জমিতে আগাছার সঙ্গে যুদ্ধ, ভালো ফলনের আশায় কৃষক মতলব উত্তরে ৩ শতাধিক পথ কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একনেক অনুমোদন চলতি সপ্তাহে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেক ; জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের সংকটের শঙ্কা মতলব উত্তরে ফসলি জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ২, আদালতে মামলা তৃতীয়বারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাংবাদিক ডলার বাগেরহাটে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর সলিলসমাধি ও ভ্যানচালকের রহস্যজনক মৃত্যু মতলব উত্তরে ৬১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

আমনের জমিতে আগাছার সঙ্গে যুদ্ধ, ভালো ফলনের আশায় কৃষক

মমিনুল ইসলাম, মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

সকাল হতে না হতেই হাতে দাওলি, নিড়ানি আর সঙ্গে সকালের নাশতা নিয়ে ধানের জমিতে ছুটছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কৃষক-কিষাণীরা। ভালো ফলনের আশায় আমন ধানের জমিতে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে এখন চোখে পড়ছে কৃষকদের এমন কর্মব্যস্ততা।

উপজেলার দুর্গাপুর, ষাটনল, এখলাছপুর, কলাকান্দা, সুলতানাবাদ, ইসলামাবাদ, ফরাজিকান্দি ও ছেংগারচর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকরা হাতে নিড়ানি নিয়ে ধানের জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ ও ধানগাছের পরিচর্যা করছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে থেকে ধানের পরিচর্যা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় ৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ জমিতেই আমন আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩ মেট্রিক টন ফলন ধরে আমনের সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। এদিকে, গত বছর উপজেলায় আউশ আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর আউশ আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টরে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩ মেট্রিক টন ফলন ধরে আউশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ১০০ মেট্রিক টন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ায় ধানের পাশাপাশি জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাছাও দ্রুত বেড়ে উঠেছে। ফলে আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাড়তি সময় ও শ্রম দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হচ্ছে তাদের।

কৃষকরা বলছেন, সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে আগাছা ধানগাছের সঙ্গে মাটি থেকে পানি, সার ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। এতে ধানগাছ দুর্বল হয়ে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ধানের চারা কিছুটা বেড়ে ওঠার পরপরই নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করছেন তারা।

উপজেলার মধ্য কালীপুর গ্রামের কৃষক সোবহান বেপারী বলেন, আমন ধানের পরিচর্যার ক্ষেত্রে আগাছা পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির পর জমিতে আগাছা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে ধানের গাছ ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। ভালো ফলনের আশায় বাড়তি শ্রম দিয়ে হলেও জমি পরিষ্কার রাখতে হচ্ছে।

ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের কৃষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমন মৌসুমে ধানের জমিতে কয়েক দফায় আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। জমির অবস্থা বুঝে সার প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যাও করতে হচ্ছে।

সাদুল্লাপুর ও বাগানবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠেও একই চিত্র দেখা গেছে। কৃষকরা নিড়ানি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ ও সেচের ব্যবস্থা করছেন। গালিমখা গ্রামের কৃষক মো. মুরাদুজ্জামান বলেন, এখন আমন ধানের জমির পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এ মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি। তবে উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৭০ হেক্টর, সেই পরিমাণ জমিতেই আবাদ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা ধানের জমিতে আগাছা দমন, সার প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করছেন। বৃষ্টির কারণে অনেক সময় আগাছা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই সময়মতো আগাছা পরিষ্কার করা জরুরি। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জন সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা