দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সংকট ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষের জেরে আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
আজ রোববার আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে রাজধানী তিরানায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবির মুখে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আন্দোলনটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বৃহত্তর সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুর্নীতি, পর্যাপ্ত চাকরির অভাব এবং শিক্ষার মান নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আন্দোলনের সময় সরকারি ভবন ও ব্যাংকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন স্থানে দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী রামা বলেছেন, বিক্ষোভ তাঁর সরকারের চেয়ে আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আকাঙ্ক্ষার জন্য বেশি হুমকি তৈরি করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা সরকারের জবাবদিহি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি অব্যাহত রেখেছেন।
আলবেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতি দমন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা দেশটির ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভের সমাধানে সংলাপ ও আইনের শাসন বজায় রাখা জরুরি।