ইসলামের মতে, নারীদের ডাক্তার হওয়া শুধু বৈধ নয় বরং এটি ফরযে কেফায়া, অর্থাৎ নারীদের চিকিৎসার জন্য সমাজে নারী ডাক্তার থাকা আবশ্যক। তবে, এই ফরযে কেফায়া পালনের শর্ত হলো, পুরো প্রক্রিয়াটি ইসলামি আদর্শ, পর্দা, এবং শালীনতা বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমান সেক্যুলার সমাজে নারীদের ডাক্তার হওয়া একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ:
সেক্যুলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের পরিবেশে পুরুষ ও নারীর অবাধ মেলামেশা একটি সাধারণ বিষয়। এই ধরনের পরিবেশে একজন মুমিন নারীর জন্য নিজের পর্দা, ঈমান, এবং চারিত্রিক গুণাবলী বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন।
বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় নারীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল বা বিভাগ প্রায়ই অনুপস্থিত। নারী ডাক্তারদের বাধ্য হয়ে পুরুষ রোগীদের চিকিৎসা করতে হয় এবং পুরুষ ডাক্তারদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এতে প্রায়শই গায়ের মাহরাম পুরুষদের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত শারীরিক সংস্পর্শ ঘটে, যা ইসলামি দৃষ্টিতে অনাকাঙ্ক্ষিত।
যারা ইসলামি আদর্শ মেনে চলেন, তাদের জন্য এই পরিবেশে নিজেদের ঈমান ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বর্তমান সেক্যুলার সমাজে কিছু নন প্র্যাকটিসিং মুসলিম ও অমুসলিম নারীরা ডাক্তার হয়ে ক্যারিয়ার গড়ছেন। তাদের উপস্থিতি এক অর্থে ফরযে কেফায়া পূরণ করছে, তবে তা ইসলামি শর্ত মেনে নয়। ইসলামের লক্ষ্য শুধুমাত্র দায়িত্ব পূরণের সংখ্যাগত পূর্ণতা নয়; বরং তা হওয়া উচিত ঈমান ও শরীয়াহ মেনে।
আজকের সমাজে দেখা যাচ্ছে, যারা পর্দা করে ফ্রি মিক্সিং-এর পরিবেশে পড়াশোনা বা কাজ করছে, তাদেরকে “এ যুগের রাবিয়া বাসরি” বলে অভিহিত করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাবিয়া বাসরি ছিলেন একজন পবিত্র এবং আল্লাহর প্রেমে নিবেদিত নারী, যিনি নিজেকে সর্বোচ্চ পর্দা এবং শালীনতার মাধ্যমে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেছিলেন। যেসব নারী ইসলামি আদর্শ ত্যাগ করে, অবাধ মেলামেশায় জড়িয়ে পড়ে, এবং গায়ের মাহরাম পুরুষদের সঙ্গে কাজ করতে বাধ্য হয়, তারা কখনোই রাবিয়া বাসরির সঙ্গে তুলনীয় নয়। এটি নারীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র, যা ইসলামি নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
দুঃখজনকভাবে, আজকাল কিছু নামধারী মুসলিম সেলিব্রিটি বক্তা সেক্যুলার চিন্তাধারার প্রচারে লিপ্ত। তারা মুসলিম ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে এমন কাজকে সমর্থন করে যা মুসলিম সমাজকে ইসলামের মূল আদর্শ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। মুসলিমদের স্বর্ণযুগে, বিজ্ঞান ও জ্ঞান চর্চা ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো, যা পশ্চিমা বিশ্বের অগ্রগতির পথপ্রদর্শক ছিল। কিন্তু এই সেলিব্রিটি বক্তারা সেক্যুলারদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ধ্বংসাত্মক।
সমাধান
মুসলিম সমাজের উচিত নিজেদের প্রচেষ্টায় এমন একটি ইসলামি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে নারীরা পর্দা ও ইসলামি আদর্শ বজায় রেখে ডাক্তারি পড়াশোনা করতে পারে। মেয়েদের জন্য পৃথক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক, যাতে তারা ইসলামি নীতির পরিপন্থী পরিবেশ থেকে মুক্ত থেকে নিজেদের ফরযে কেফায়া আদায় করতে পারে।
উপসংহার
মুসলিম নারীদের জন্য ডাক্তার হওয়া অপরিহার্য, তবে তা কখনোই ইসলামের মূলনীতি, পর্দা, ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে নয়। সেক্যুলার চাপে পড়ে ঈমান বিসর্জন দিয়ে অর্জিত কোনো সাফল্য মুসলিম নারীদের জন্য সম্মানজনক নয়। মুসলিম উম্মাহর উচিত ইসলামের মূলনীতি বজায় রেখে নারীদের জন্য আলাদা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র তৈরি করা।
#সংগৃহিত