October 26, 2026, 8:36 am
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে আজ রাতে ঢাকা ছাড়ছেন, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জাপানের সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় রাষ্ট্রদূত ঢাকায় থাকবেন, সিদ্ধান্তকে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা

চাঁদপুরের জাহাজে ৭ খুন ; জড়িতদের গ্রেপ্তার না করলে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি!

বিশেষ প্রতিনিধি, চাঁদপুর :

চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটের কাছে সারবোঝাই এমভি আল বাকেরা জাহাজে সাতজন ক্রু সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।

আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গণমাধ্যম কর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুর রহিম তোফা।

তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে এটি হত্যাকাণ্ড। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূইয়ার নির্দেশনায় আগামীকাল সারাদেশে কালো পতাকা উত্তোলন এবং বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যারা আমাদের শ্রমিকদের হত্যা করেছে তাদের আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রেপ্তার এবং শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের ২০ লাখ টাকা করে প্রদান না করলে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করা হবে।

এর আগে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটের পশ্চিমে মেঘনা নদীর পাড়ে মাঝিরচর এলাকায় থেমে থাকা একটি জাহাজ থেকে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে পাঁচজনের মরদেহ এবং তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে আরও ২ জন মারা যান।

নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া, ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন, সুকানি আমিনুল মুন্সি, গ্রিজার আজিজুল ও মাজেদুল এবং লস্কর সবুজ শেখ। এদের বাড়ি নড়াইল ও ফরিদপুর জেলায়।

এদিকে বেঁচে থাকা একজন হাসপাতালে নেওয়ার পর কাগজে লেখেন তার নাম জুয়েল। গলা আংশিক কাটা থাকায় তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ একটি টিম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। যে জাহাজটিতে মরদেহ পাওয়া গেছে সেটির নাম এমভি আল-বাখেরা। জাহাজটি মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে মাঝির চরে নোঙর করা অবস্থায় ছিল। ওই জাহাজের বিভিন্ন কক্ষে পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় ছিল। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে তাদের মধ্যে দুজন মারা যান। একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। কীভাবে সাতজনের মৃত্যু হলো তা এখনো জানা যায়নি। তবে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

নৌ পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের আরও বলেন, জাহাজের মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী সারবোঝাই জাহাজটি চট্টগ্রামের কাফলু থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে যাচ্ছিল। গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি আজ সিরাজগঞ্জে এসে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু জাহাজের খবর না পেয়ে জাহাজের মালিক অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে অন্য জাহাজের কর্মচারীর মাধ্যমে তার জাহাজটি চাঁদপুরে মেঘনা নদীর পাড়ে আছে শুনে ৯৯৯-এ পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং কোস্ট গার্ডের দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নৌ পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের যৌথ অবস্থানে নিহতদের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি ডাকাতি, নাকি তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নৌ পুলিশ দুটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

জাহাজটির মালিক দিপলু রানা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি জানি না কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কারা ঘটিয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম থেকে রওনা হওয়ার পর রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাহাজটির চালকের (মাস্টার) সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন চালক জানিয়েছিলেন, মেঘনা নদীতে তারা জাহাজের বহরের মধ্যেই ছিলেন। তবে সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।

তিনি বলেন, “বারবার যোগাযোগ না করে কাউকে না পেয়ে আমাদের আরেকটি জাহাজের (মুগনি-৩) নাবিকদের বিষয়টি জানাই। ওই জাহাজ এমভি আল বাখেরার কাছাকাছি ছিল। তারা আল-বাখেরার কাছাকাছি যাওয়ার পরই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানতে পারেন।”

তথ্যসূত্র : মতলব প্রতিদিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা