শরীয়াতপুর সড়ক উপ-বিভাগের (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইখতিয়ার মাহামুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদ বিক্রি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগগুলো পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপদেষ্টা, সচিব, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে শরীয়াতপুরে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।
ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, ইখতিয়ার মাহামুদ শরীয়াতপুর সওজে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, তাঁর প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে কাজ দেওয়া হয়েছে।
কিছু ঠিকাদার দাবি করেন, দরপত্র ছাড়াই কাজ দেওয়া, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া এবং কাজের বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, শরীয়াতপুর–ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট সড়কের গাজীপুর এলাকায় একটি পুরোনো বেইলি ব্রিজের সংযোগ সড়কে থাকা বিপুল পরিমাণ ইট সরকারি হিসাবের বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেখানে আগে বিপুল পরিমাণ ইট ছিল, যা পরে রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও তারা নির্দিষ্ট কারও নাম বলতে পারেননি, তবে তাদের ধারণা—এ কাজে সওজের কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
এছাড়া বেইলি ব্রিজের ভাঙা স্টিল বা ইস্পাতও যথাযথ নিলাম ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে একটি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এখনও কিছু পরিত্যক্ত স্টিল পড়ে আছে।
স্থানীয় এক চা দোকানদার জানান, সেখানে আগে বিপুল পরিমাণ লোহা-ইস্পাত ছিল। কয়েকদিনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক এনে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
দরপত্র ছাড়াই কাজের অভিযোগ
আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, যথাযথ দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
সওজের এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাজটি সম্পন্ন হলেও ওই কাজের দরপত্র কবে হয়েছে বা কে পেয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নথি তাঁর কাছে নেই।
স্থানীয় সূত্র বলছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইখতিয়ার মাহামুদের প্রভাবেই এমন একাধিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গাড়ি অফিসের কাজের বাইরে ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া পটুয়াখালীতে কর্মরত একজন চালককে শরীয়াতপুরে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কর্মকর্তার বক্তব্য
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইখতিয়ার মাহামুদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, রাস্তার পাশে কোনো ইট ছিল না এবং তিনি কোনো ইট ব্যবহার করেননি।
বেইলি ব্রিজের ইস্পাত বিক্রির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সেগুলো ঢাকার মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো নথি বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে শরীয়াতপুর সড়ক উপ-বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা আরএসডি নাবিল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যা তথ্য পেয়েছেন, তা লিখতে পারেন।”
তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
তারা বলছেন, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।